শিবরাত্রির প্রাক্কালে বানেশ্বর শিবমন্দির পুকুর থেকে ‘মোহন’ চুরির চেষ্টা : ধৃত ১ |The4thcolumn

নিজস্ব প্রতিবেদক, কোচবিহার, দ্য ফোর্থ কলাম, ২০ফেব্রুয়ারি’২০২০ :-

শিবরাত্রির প্রাক্কালে চুরি গেল কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর মন্দির সংলগ্ন দীঘির শতবর্ষ প্রাচীন মোহন। মোহন চুরির অপরাধে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করল পুন্ডিবাড়ি থানার পুলিশ। দীর্ঘদিন থেকেই ওই এলাকায় মোহন চুরি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠছিল। বুধবার রাতে একটি ১০ কেজির মোহন সহ স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ল বানেশ্বর শিক্ষক পল্লী এলাকার বাসিন্দা বিজয় কুমার মৈত্র।
প্রাথমিক জেরায় বিজয় কুমার মৈত্র জানান, তুফানগঞ্জের এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি পুকুর থেকে মোহন চুরি করেছিলেন। ঘটনায় ফলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে বানেশ্বর সহ গোটা কোচবিহারে।
ইন্ডিয়ান টার্টেল বা ভারতীয় কাছিম। কোচবিহারের বানেশ্বর এলাকায় প্রায় প্রতিটি দীঘিতে দেখতে পাওয়া যায়। কোচবিহার বাসীর কাছে এই কাছিম মোহন নামে পরিচিত। বানেশ্বরে প্রতিষ্ঠা মহাদেবের অন্যতম সুরক্ষা কর্মী হিসেবে কোচবিহার বাসীর কাছে অত্যন্ত পূজনীয় এবং শ্রদ্ধার প্রাণী এই মোহন। কোচবিহারবাসী এই মোহন সম্পর্কে খুবই সংবেদনশীল। তাই মোহন চুরি করে বিক্রি করার মতো অপরাধমূলক কাজের চেষ্টা করার জন্য বিজয় কুমার মৈত্রের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তি দাবি করেছেন কোচবিহারের জনসাধারন।
কোচবিহার ২ নং ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা জেলা পরিষদ সদস্য পরিমল বর্মণ বলেন, বেশ কয়েক মাস থেকেই পুকুর থেকে মোহন চুরি হওয়ার মতো অভিযোগ উঠে আসছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা তক্কে তক্কে ছিল। এদিন সন্ধ্যায় পুকুরের পেছনের অন্ধকার জায়গা থেকে এক ব্যক্তিকে ব্যাগ হাতে করে বেরিয়ে আসতে দেখে এলাকার মানুষজন। তাকে আটক করলে সেই ব্যক্তির কাছ থেকে বেরিয়ে আসে একটি জীবিত মোহন। তারপরে খবর দেওয়া হয় বানেশ্বর পুলিশ ফাঁড়িতে। পুলিশ এসে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করা হয়েছে। মোহন কোথায় কিভাবে পাচার হচ্ছিল তা নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এই মোহন পাচার কাণ্ডের সঙ্গে ভিন রাজ্যের বড় কোন পাচার চক্রের যোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান কোচবিহার জেলা পুলিশ সুপার ডক্টর সন্তোষ নিম্বালকার।

Leave a Reply

error: Content is protected !!