আলিপুরদুয়ার রেলের সঙ্কোচন-উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তামাম জংশন ব্যবসায়ী মহল : বনধ বিক্ষোভ ধর্নায় প্রতিবাদ |The4thcolumn

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১০ ফেব্রুয়ারি’ ২০২০ :-

আলিপুরদুয়ার জংশনের রেল বিভাগকে ক্রমশ ছোটো করার প্রতিবাদে অবস্থান বিক্ষোভ করল আলিপুরদুয়ার জংশনের ব্যবসায়ী মহল। আলিপুরদুয়ার জেলার আলিপুরদুয়ার জংশন রেলশহরের প্রানকেন্দ্র আলিপুরদুয়ার রেল বিভাগ দিন দিন সঙ্কুচিত হচ্ছে। বেশ কিছু ট্রেন উঠিয়ে নিয়ে ছোটো করা হচ্ছে আলিপুরদুয়ার রেল বিভাগকে। সোমবার এর প্রতিবাদ জানিয়ে এক অবস্থান বিক্ষোভ করলেন আলিপুরদুয়ার জংশনের ব্যবসায়ীরা। এদিন আলিপুরদুয়ার জংশন এলাকায় অবস্থান বিক্ষোভ করে ১২ ঘন্টার বন্ধ পালন করলেন কমপক্ষে ২ হাজার ব্যবসায়ী। জংশন রেলবাজার সহ ভোলারডাবরী থেকে দমনপুর পর্যন্ত প্রায় ৪ কিমি এলাকা জুড়ে সমস্ত দোকানপাট বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা।
গত ৬ মাস ধরে আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী একটানা বলে আসছিলেন যে আলিপুরদুয়ার শহরের উন্নয়নে সব থেকে বড়ো বাধা সৃষ্টি করছে রেল বিভাগ। কার্যত সেই বক্তব্যের প্রতিফলন এবার দেখা গেল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার বিভাগে। রেলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের জমা ক্ষোভের ফলে আলিপুরদুয়ার জংশন ডিআরএম অফিসের ঠিক সামনে মঞ্চ বেঁধে সকাল থকে দুপুর পর্যন্ত টানা ৩ ঘন্টার অবস্থান বিক্ষোভ করল ব্যবসায়ীরা।
জংশন এলাকার ব্যাবসায়ী দের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপাতি মৃদুল গোস্বামী বিক্ষোভ মঞ্চে বক্তব্য রাখেন। জেলার অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত হন সেখানে। এদিন ব্যবসায়ীরা সাত দফার দাবি নিয়ে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ডিআরএম এর সঙ্গে দেখা করেন। ৭ দফার দাবির পাশাপাশি গত ১৫ বছর ধরে রেলের উচ্ছেদ নিয়ে যে উদ্বেগ, আতঙ্ক রয়েছে তাও ফুটে উঠেছে এদিনের অবস্থান বিক্ষোভে।
ব্যবসায়ী সংগঠনের সাধারন সম্পাদক তুষার রঞ্জন ঘোষ বলেন “ডিআরএম আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে অরুনাচল এক্সপ্রেস, সিকিম মহানন্দা এক্সপ্রেস ফিরিয়ে আনা হবে। খুব দ্রুত রেল আমাদের দাবিগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে সার্ভে করবে। আমরা ডিআরএমের সঙ্গে আলোচনা করে পুরোপুরি খুশি নই। রেল কি পদক্ষেপ নেয় তা দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।”
এদিকে সৌরভ চক্রবর্তী এদিনও রেলের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “এবারের রেল বাজেটে উত্তরবঙ্গকে নূন্যতম কোনো সাহায্য করেনি কেন্দ্র সরকার। রেলের প্রাপ্য বলতে শূন্য। রেল বিভাগের উচ্ছেদ নিয়ে গত সপ্তাহে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা আন্দোলনে নেমেছে। ব্যবসায়ীরা অবস্থান বিক্ষোভ করছে। আমরা তাদের পাশে আছি।”
সৌরভ চক্রবর্তী কার্যত রেলকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, “রেলের ক্ষমতা থাকলে একজন ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ করে দেখাক।”
উল্লেখ্য, এবারের রেল বাজেটে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জন্য ৬৫৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যার সিংহভাগ অর্থ আসামে সীমান্ত রেলে ৪টি ডিভিশনে খরচ হবে। উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রান রক্ষা এবং উত্তরবঙ্গের রেলের গতি বাড়িয়ে তুলতে এক টাকাও বরাদ্দ নেই সেখানে। স্বাভাবিকভাবেই, অদূর ভবিষ্যতে উত্তরবঙ্গে রেলের পরিস্থিতি খুব কঠিন হয়ে উঠবে বলে মনে হচ্ছে।

Leave a Reply

error: Content is protected !!