জারুল রাভা, দ্য ফোর্থ কলাম,১ সেপ্টেম্বর’১৯ :-

মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ! ময়দানের দুই প্রধানের অন্ধ সমর্থকরা প্রিয় দলের জন্য প্রাণপাত করেন , একে অপরের লেজ -মুড়ো চিবিয়ে খান । কিন্তু যাদের শৈল্পিক দাপটে বেঁচে থাকে বাঙালীর ফুটবল , সেই ফুটবলাররা কিভাবে বেঁচেবর্তে থাকেন , তার খবর কেউ রাখে না । গৌতম ভট্টাচার্য । ময়দান কাঁপানো ফুটবলার । ছিলেন মোহনবাগানের সম্পদ , ক্লাব সমর্থকদের চোখের মণি । আশি-নব্বই দশকের ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম মনিমুক্তা । প্রাক্তন হয়ে যাওয়ার পর তার দুরবস্থাও হয়তো অজানাই থাকত নিয়ম মেনেই । স্ত্রীর চিকিৎসার অর্থ মায় ওষুধটুকুও জোগাড় করতে না পেরে হাল প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন এই প্রাক্তন ফুটবলার । শেষ অবলম্বন হিসেবে খড়কুটোর ন্যায় ভরসা করেছিলেন ‘দিদিকে বলো’ ফোন নম্বরটিকে । এবং পেলেন যথাযথ ভরসা । গোটা ঘটনার বিবরণ শুনে , তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসার হাল ধরেছে ‘দিদিকে বলো’ টিম । প্রাথমিক দফায় ইতিমধ্যেই অর্থ সাহায্য পেয়েছেন উত্তর ২৪-পরগনা নিবাসী গৌতমবাবু । এছাড়াও পরবর্তী চিকিৎসা খরচের দায়ভারও কাঁধে তুলে নিয়েছে ‘দিদিকে বলো’টিম ।
‘দিদিকে বলো’ টিম সূত্রে খবর , এই প্রাক্তন ‘মোহনবাগানী’র পেনশন চালু থাকলেও স্ত্রীর চিকিৎসাজনিত কারনে বেচতে হয় ঘরের যাবতীয় অস্থাবর । ওষুধ কেনা কিংবা হাসপাতাল বিল দেওয়ার ক্ষমতা টুকু ছিল না তার । মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল চেনা-অচেনা অনেকেই । বাজারে ধারও করেছিলেন প্রচুর । এই অবস্থায় তিনি ফোন করেন ‘দিদিকে বলো’ নম্বরে এবং এরপর আর সময় নেয় নি টিম ‘দিদিকে বলো’ । পৌঁছে যায় অর্থ সাহায্য ও পরবর্তী সাহায্যের আশ্বাস । আপাতত স্বস্তিতে গৌতম বাবু । কিন্তু তিনি আপাত স্বস্তি পেলেও , শয়নে-স্বপনে-জাগরণে থাকা বাঙালীর ফুটবলের ধারক ও বাহকরা যে কতটা অসহায় , সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে যায় এই ঘটনা এবং তা যে মোটেও স্বস্তিদায়ক নয় , বলাই বাহুল্য ।