‘এনার্সি ভবিষ্যতের বিষয়’ : জলপাইগুড়িতে দিলীপ ঘোষ : ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে অবস্থান বদলের ইঙ্গিত |The4thcolumn

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৬ডিসেম্বর’১৯:-

অমিত শাহ বলেছেন এবং দিলীপ ঘোষ সেই পথেই হাঁটা শুরু করলেন । ঝাড়খণ্ডের ফলাফল যাতে বাংলার একুশে প্রভাব না ফেলে তাতে সাবধানতা নেওয়া শুরু করল বাংলার বিজেপি এবং অবস্থান বদল করে এনার্সি নিয়ে মানুষের ‘বিভ্রান্তি’ কাটাতে ‘ভবিষ্যৎ বলবে’ কিংবা ‘অসমে কোর্ট করেছে, বিজেপি নয় ‘ ইত্যাদি বক্তব্যের নরম সুর এবার রাজ্য বিজেপি সভাপতির স্বরে ।
পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় নাগরিক নিবন্ধক (এনআরসি) এর পক্ষে বারংবার প্রচার করার পরে, রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বুধবার বলেছেন, এনআরসি “ভবিষ্যতের বিষয়” । তার এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে দলটি বাংলায় এনআরসি অনুসরণ করবে না, এমন ধারনাই উঠে আসছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে। ঠিক এক বছর আগে দিলীপবাবু বলেছিলেন, এনআরসি বাংলায় অনিবার্য এবং দলটি প্রকাশ্যে এর পক্ষে সমর্থন জানায়। অন্যদিকে বুধবার এর বাস্তবায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে, শ্রীঘোষ বলেন, “কখন এটি হবে এবং ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা ভবিষ্যতের বিষয় ।”

এনআরসি বিজেপির আমদানি নয়, এই প্রসঙ্গে জলপাইগুড়িতে শ্রী ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন “সুপ্রিম কোর্টের আদেশের কারণে অসমে এনআরসি কার্যকর করা হয়েছিল। রাজীব গান্ধী এই চুক্তি করেছিলেন যে তারা এনআরসি করবে। বিজেপি এই চুক্তি করে নি [এবং] তারা আদালতে যায়। আদালতের আদেশের ভিত্তিতে, এটি কার্যকর করা হয়েছিল [আসামে], এটি ভালোভাবে বুঝতে হবে,”। রাজীব গান্ধীর সঙ্গে এনআরসিকে সংযোগ করে, বিজেপি এখন “এটি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে কংগ্রেসের উপর চাপিয়ে দেওয়ার” চেষ্টা করছে, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে ফোনে কথা হবে ।

“যদি দেশব্যাপী এনআরসির প্রয়োজন হয়, কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করবে,” বিজেপি সাংসদ বলেন। আরএসএসের সিনিয়র সদস্য মিঃ ঘোষ সর্বদা বাংলায় এনআরসির পক্ষে ছিলেন। এমনকি গত নভেম্বরের তিনটি সমাবেশে উপনির্বাচনে পরাজয়ের পরেও তিনি বলেছিলেন যে পরাজয়ের জন্য এনআরসিকে দায়বদ্ধ করা সঠিক হবে না ।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্যান-ইন্ডিয়া এনআরসি নিয়ে “কোনও আলোচনা নেই” বলার ২৪ ঘন্টার মধ্যে তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। আরএসএস এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলি গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে এটিতে মনোনিবেশ করার পরে, এখনও এটি সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন (সিএএ) সম্পর্কে শ্রীঘোষ বলেছিলেন, “সংসদে পাস হওয়ার সাথে সাথে এটি দেশে এবং বাংলায় প্রয়োগ করা হবে”। তবে বুধবার তিনি এও বলেন , নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন একটি সাংবিধানিক আইন । পাশ হয়ে গেছে । সমস্ত রাজ্যে এটা লাগু হবেই ।

Leave a Reply

error: Content is protected !!