২০ ফুট নীচে অবস্থান শিবলিঙ্গের : দ্বাপর যুগের অসুররাজ বানাসুরের স্মৃতি ঘেরা শৈবতীর্থ বানেশ্বর শিবমন্দির কথকতা |The4thcolumn

নিজস্ব প্রতিবেদক, কোচবিহার, ২২ফেব্রুয়ারি’২০২০ :-

কোচবিহার শহর থেকে আলিপুরদুয়ার যাবার পথে ১০কিমি দূরে বানেশ্বর শিব মন্দির অবস্থিত। লিঙ্গপুরান মতে ,দ্বাপরযুগের শেষভাগে উত্তরবঙ্গের বানাসুর নামক এক অসুররাজের দ্বারা প্রতিষ্টিত ; কালের নিয়মে বানাসুর কর্তৃক প্রতিষ্টিত শিব মন্দির ও শিবলিঙ্গ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গভীরবনের ভিতর লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যায়।

পরবর্তীকালে কোচবিহার রাজ্যের ” কোচ ” নৃপতি মহারাজা নরনারায়ণের ( রাজত্বকাল :- ১৫৫৪ – ১৫৮৮ খ্রিস্টাব্দ ) রাজত্বকালে রাখাল বালকেরা গরু খুঁজতে গিয়ে এই অঞ্চলের গভীর বনে গিয়ে দেখেন একটি গরু মাটির স্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে আর তার স্তন বেয়ে দুধ পড়ছে, এই সংবাদ তৎকালীন কোচবিহারের রাজদরবারে মহারাজা নর নারায়ণের কাছে পৌঁছালে তিনি এই শিবলিঙ্গ উদ্ধার করে মন্দির গড়ে নিত্যপুজোর ব্যবস্থা করেন এবং তাঁর কর্ণগোচরে এই খবর আসায় স্থানটির নাম হয় গেধছওরা।

বর্তমান মন্দিরটি মহারাজা নরনারায়ণের উত্তরপুরুষ মহারাজ প্রাণ নারায়ণ ( রাজত্বকাল :- ১৬৩২-১৬৩৫ খ্রিস্টাব্দ ) পূর্ণনির্মাণ করেন। মন্দিরটির উচ্চতা ১১মিটার , শিবলিঙ্গের গৌরিপট সমতল থেকে প্রায় ২০ ফুট নিচে। পাশেই সংলগ্ন একটি দীঘি আছে ,এখানে মোহন নামে প্রচুর কচ্ছপ আছে। শৈব তীর্থ হলেও বানেশ্বর শিবের চলন্ত বিগ্রহের দোল উৎসব হয়। প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের মহাশিব রাত্রিতে এখানে উৎসব হয়ে থাকে, উৎসবটি বহু প্রাচীন , এইসময় বিশেষ পূজা ও হোম হয় । বহু ভক্ত সমাগম হয় এবং সাতদিন মেলাও বসে।

Leave a Reply

error: Content is protected !!