নিজস্ব প্রতিবেদক,জলপাইগুড়ি, ২৭ সেপ্টেম্বর’১৯ :-

ফের দ্রুত গামী ট্রেনের ধাক্কায় আহত হাতি । গত কয়েক মাস ধরে রেল দপ্তর খবর দিচ্ছিল, চালকের তৎপরতায় রক্ষা পেয়েছে বুনো হাতি। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকল না।
শুক্রবার সকালে আবার চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় জখম হলো এক বিশালদেহী মাকনা হাতি । রেল ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, শুক্রবার সকালে পোনে আটটা নাগাদ শিলিগুড়ি – ধুবড়ি আপ ইন্টারসিটি প্যাসেঞ্জার ট্রেন নাগরাকাটা রেলস্টেশন ছেরে বানারহাট অভিমুখে যাচ্ছিল। ্সেই সময় একটি দল ছুট হাতি ট্রেন লাইন পার করে ডায়না জঙ্গলের দিকে ফিরছিলো । ট্রেনের গতি বেশি থাকায় হাতি টিকে ধাক্কা মারে ট্রেন । মারত্মক ভাবে আহত হয় হাতি টি ।
ক্যারন এর কাছে ধরনীপুর চা বাগানের ভিতর দিয়ে ট্রেন ছুটে যাচ্ছিল বানারহাটের দিকে। ডায়না জঙ্গল থেকে একটি হাতি বেড়িয়ে পাশের গ্রামে রাতের বেলা খ্যাদের খোজে ঢুকেছিলো বলে বাসিন্দা দের দাবি । রেললাইনের পারা হচ্ছিলো। সেই সময় দ্রুত গতি তে সেই মাকনা হাতি কে ধাক্কা মারে । গত কয়েকদিন দিন ধরেই এই মাকনা এই এলাকায় দাপিয়ে বেরাচ্ছিল। সম্ভবত ভোরের আলো ফোটার পর ডায়না বনাঞ্চলের দিকে ফেরার চেষ্টা করছিল। সেই চেষ্টা করে রেললাইনের উপর উঠে আসে। ট্রেনের গতি বেশি থাকায় ট্রেনের ব্রেক কস তে পারেন নি চালক বলে যানান ট্রেনের যাত্রীরা । প্রচন্ডজোরে ধাক্কা মারে হাতির গায়ে। রেললাইন থেকে ছিটকে পড়ে বিশালদেহী মাকনা। হাতির কোমর ও পিছনের পা মারাত্মকভাবে জখম হয়। জখম এতই গুরতর ছিলে যে হাতির নড়াচড়া করার ক্ষমতা ছিলনা। ট্রেনের সামনে পড়ে থাকে হাতিটি পরে বহু কষ্টে কোন মত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে রেললাইন থেকে ফাঁকা জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নেয় হাতিটি তবে ঘটনার চার ঘণ্টা পেরিয়ে গেল হাতিটির চিকিৎসা শুরু করতে পারেনা বনদপ্তর। এদিকে আহত হাতির বিষয়ে জানাতে এবং পরামর্শ নিতে রাজ্যের বনমন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে ফোন করা হলে তিনি আধিকারিকদের ফোন কেটে দেন বলে অভিযোগ।
ঘটনায় ট্রেনের ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জখম হয় টেনের চালক। আচমকা এই ঘটনায় আতংকিত হয়ে পড়ে যাত্রীরা। কয়েকজন যাত্রীর হাতে পায়ে আঘাত। ইতিমধ্যে অনেকে নেমে ফটো তুলতে শুরু করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বনকর্মীরা। ছুটে আসে পুলিশ। উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে ডাকা হয় এসএসবি।
এদিকে আহত হাতের চিকিৎসা দেরিতে শুরু করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী বন আধিকারিকদের ঘিরে শুরু করে বিক্ষোভ। এদিকে আহত হাতির খবর করতে গেলে সাংবাদিকদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন খুনিয়া স্কোয়াডের এসিএফ।
ট্রেনের যাত্রী আব্দুল জিলিল বলেন , ক্যারন স্টেশন পার হয়ার পর আচমকা ট্রেন টি কেপে উঠে বিকট শব্দ হয় আর ট্রেন টি দারিয়ে যায় । সকলেই আতঙ্কিত হয়ে পরে । তার পর সবাই ট্রেন থেকে সামনের দিকে তাকালে দেখতে পাই একটি হাতি লাইনের উপর পরে রয়েছে । চিৎকার করছে । ট্রেনের গতি বেশি থাকায় চালক নিয়ন্ত্রন করতে পারেনি । অনেক প্যাসেঞ্জার আহত হয়েছে ।
এলাকার বাসিন্দা গনেশ উরিয়া বলেন , হাতি টি মাঝে মধ্যেই গ্রামে ঢোকে । গত কাল রাতেও ঢুকেছিলো । সকাল বেলা রেল লাইন পার হয়ে যাচ্ছিলো তখন ট্রেন ধাক্কা মারে । ধরনিপুর চা বাগানের কাছে রেল লাইনের একটি বটার্নিং আছে সেখান রেলের হর্ন বাজানোর কথা সব শময় । ট্রেন চালক আজ বাজায় নাই সেই কারনেই দূর্ঘটনা ঘটেছে ।
জলপাইগুড়ি অনারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরী বলেন, আমরা খবর পেয়েছি যে হাতিটি মারাত্মক ভাবে জখম হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে ডাক্তার নিয়ে পৌছাই । ডাক্তার পরিস্থিতি দেখে কিভাবে চিকিৎসা করবে সেটা জানার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আলিপুরদুয়ারের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার তনবীরসেন জৈন বলেন, আমি একটা মিটিংয়ে আছি। দুর্ঘটনার খবর পেয়েছি। কিভাবে ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজ্যের বনমন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, মানুষ কি আর হাতি কি , কারো উপরেই দরদ নেই রেলের। হাতির মৃত্যু নিয়ে আমরা বারবার রেলের সঙ্গে বৈঠক করছি। ওয়ার্কশপ করা হচ্ছে আমরা বডন কর্মীদের পাঠিয়েছি আধিকারিকদের পাঠিয়েছি ট্রেন চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য। কি ভাবে সর্তকতা অবলম্বন করবে তার প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য। তার পরেও যখন এই ধরনের ঘটনা ঘটে তাতে পরিস্কার যে রেল এই ব্যাপারে সচেতন নয় এবং এই হাতি আহত হওয়ার জন্য দায়ী রেল দপ্তর। আহত হাতির চিকিৎসা চার ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও শুরু না হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে তবে চিকিৎসক এবং আধিকারিকরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন দুপুর বারোটা নাগাদ। এবং রেল এর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা বিষয়টি আলোচনা নিয়ে দেখা হবে।

