নিজস্ব প্রতিবেদক, ধুপগুড়ি, ২৬ নভেম্বর’১৯ :-

ধূপগুড়ির ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এবং ধুপগুড়ির মানুষকে আরো বেশি আনন্দ দেবার উদ্দেশ্যে ডুয়ার্স উৎসব এর আদলে এবার ধূপগুড়িতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ধুপগুড়ি উৎসব। এতদিন পর্যন্ত ধূপগুড়ির কোন নিজস্ব অনুষ্ঠান বলে সরকারিভাবে লিপিবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন পূজাকে কেন্দ্র করে মেলা অথবা সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী অনুষ্ঠান হওয়া এটাই ছিল রীতি। কিন্তু এবার ধুপগুড়ি পুরসভার উদ্যোগে এবং ধুপগুড়ির কিছু সমাজসেবী এবং সাংবাদিকদের যৌথ ইচ্ছায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ধূপগুড়ি উৎসব। মঙ্গলবার এই উৎসবের বিষয়ে বৈঠক করা হয় পাশাপাশি উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা বসবে এবং দেশ-বিদেশে দোকানিরা আসবেন সেটা নিয়ম আলোচনা হয়। আলোচনার শেষে ধূপগুড়ি পৌরসভার সাথে মেলা আয়োজক দের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এদিন পুরসভার চেয়ারপার্সনের অফিস কক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপার্সন ভারতী বর্মন, ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার সিং, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নমিতা রায়, ধুপগুড়ি উৎসব কমিটির আহবায়ক অনিরুদ্ধ দাসগুপ্ত,সাংবাদিক সপ্তর্ষি সরকার, গোপাল সাহা,সাংবাদিক রনি চৌধুরী প্রমুখ। দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয় ধুপগুড়ি উৎসবকে কি করে সফল করা যায় সে বিষয়ে।
ধূপগুড়ি উৎসব আগামী ১০ই জানুয়ারি শুরু হবে এবং তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ফুটবল ময়দানে এবং চলবে হাজার ১৯ই জানুয়ারি পর্যন্ত। এই দশ দিন থাকছে কলকাতার খ্যাতনামা শিল্পীদের দাঁড়া সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা থাকবে নানান অনুষ্ঠান এবং গুণীজন সংবর্ধনা। উৎসব কে কেন্দ্র করে মেলা বসবে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে। তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। এ বছর ধূপগুড়ি ফুটবল মাঠ (যে অংশটা খেলায় ব্যাবহার হয় না) ডাকবাংলো এবং মিলনী ময়দান সহ সমস্ত রাস্তা জুড়ে মেলার স্টল দোকান বসবে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের স্টল ও যেখান থাকবে। সাধারণ মানুষ নানান তথ্য জানতে পারবে সেই সমস্ত দপ্তর সম্পর্কে।
এদিন মেলা আয়োজক এক্সপোর লোকেরা সমস্ত উৎসব মাঠ ঘুরে দেখেন। কোথায় কিভাবে কোন দোকান বসবে কোন দিক দিয়ে প্রবেশ পথ হবে এবংকোন পাশ দিয়ে মানুষ বের হবে সে সমস্ত দিক গুলি খতিয়ে দেখেন তারা। পাশাপাশি দেশী-বিদেশী যে সমস্ত দোকানিরা আসবে তাদের দোকান কোথায় বসবে এবং কি ধরনের পরিবেশ প্রয়োজন সে সমস্ত দিক গুলি তারা খতিয়ে দেখে আলোচনা করেন পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে।
ধূপগুড়ি পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার সিংহ বলেন, এই ধূপগুড়ি উৎসব দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন ধূপগুড়ি বাসীর। এ বছর তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিই দুই হাজার কুড়ি সালে ধূপগুড়ি বাসিকে ধূপগুড়ি উৎসব উপহার দেব। সেইমতো সমাজের কিছু বিশিষ্ট জন, কাউন্সিলর এবং সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় ধূপগুড়ি উৎসবের।
এটা আমাদের স্বপ্ন ধূপগুড়ির ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এই উৎসব করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পৌরসভার বোর্ড মিটিংয়ে ধূপগুড়ি উৎসবের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে এবং তা পাস হয়ে গিয়েছে সর্বসম্মতিক্রমে। সেই মত আগামী ২৮ নভেম্বর সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর বুদ্ধিজীবি, শিক্ষক সাংবাদিক এবং বিভিন্ন ক্লাব এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে ধুপগুড়ি পৌরসভা মিটিং হলে। কিভাবে উৎসব কে সফল করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করা হবে সেদিন। পাশাপাশি বিভিন্ন কমিটিও গঠন করা হবে ওই বৈঠকের পর। তাই এখন থেকেই জোর কদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি। আমরা সমস্ত ধূপগুড়ি বাসীর সহযোগিতা চাইছি ।