নো-এন্ট্রি বোর্ড সরিয়ে ডাম্পার’কে অন্যায় সুবিধাদান : প্রশ্নের মুখে পুলিশ-প্রশাসন |The4thcolumn

নিজস্ব প্রতিবেদক,ধূপগুড়ি, ৫ ডিসেম্বর’১৯ :-

কিছুদিন আগেও নো এন্ট্রির বোর্ড মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে ছিলো।সেখানে স্পষ্ট করে লেখা সকাল আটটা থেকে রাত্রি আটটা পর্যন্ত ভারি যান চলাচল নিষেধ। পুলিশের এই নির্দেশিকাকে রীতিমতো ল্যাং মেরে ওভার লোড ডাম্পারের দৌরাত্ব ধূপগুড়ি থানা রোডে।এইবার সেই দায় এড়াতে বেশ কিছুদিন থেকে উধাও সেই বোর্ড।যেহেতু আইন ভাঙ্গা আটকানো সম্ভব না তাই আইনটাকেই উঠিয়ে নিয়ে উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিলো ধূপগুড়ি পুলিশ। কিছুদিন আগেও এই রাস্তায় ভারি যান চলাচলের সময়সীমা বেঁধে নিয়ে বোর্ড লাগিয়ে ছিলো পুলিশ। আইন ভাঙ্গার প্রতিযোগিতায় সেই সাইন বোর্ড কার্যত খিল্লির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। সিভিক ভলিনটিয়ার সহ চারপাঁচজন ট্রাফিক পুলিশ কর্মীর উপস্থিতিতে চলছে এই আইন ভাঙ্গার খেলা। হেলমেট হীন বাইক চালকদের ক্ষেত্রে পুলিশের দাবাং রূপ দেখা গেলেও এইসব ডাম্পার গুলির সামনে কার্যত অসহায় রূপ দেখতে পাওয়া যায় তাদের। আর সিভিক ভলিনটিয়াররাই বা কি করবে? সাহেবেরা যখন ব্যর্থ , এমনটাই অভিযোগ উঠেছে ধুপগুড়ির আনাচে কানাচে ।

জানা গেছে , এই ডাম্পার কিন্তু ধূপগুড়ি থানা রোডের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড়ো মাথা ব্যথার কারণ।এমিতেই সংকীর্ণ হওয়ায় এই রাস্তায় যান চলাচলের গতি কিছুটা শ্লথ।তার ওপর এই ডাম্পার গুলি ঢুকে গিয়ে যানজটের মাত্রা কয়েকগুন বাড়িয়ে দেয়।আর এই কারণে দুর্ভোগে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে,বালির গাড়ি চলাচলের ফলে ধুলোয় ঢেকে যেতো থানা রোড।ব্যবসায়ীদের দোকান থেকে ধুলো পরিষ্কার করতে দিন পার হয়ে যেতো।এই রাস্তাতেই ধূপগুড়ি বিডিও অফিস,পৌরসভা অফিস, থানা, পোস্ট অফিস,পশু হাসপাতাল।প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের দপ্তর এই রাস্তাতে হলেও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ডাম্পারের দৌরাত্ব সম্পর্কে তারা হয়তো অবগত নন।যদি হতেন তবে হয়তো এইসব সরকারি নির্দেশিকা না মানা বেপরোয়া ডাম্পার গুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতো।

ধূপগুড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দেবাশীষ দত্ত বলেন, “এক বছর আগে পৌরসভার কাছে স্মারকলিপি দিয়ে এই রাস্তায় ভারী যান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করার কথা বলা হয়।সেই কথা মতো নির্দেশিকা জারি হলেও বেশ কিছুদিন থেকে দেখছি সেই বোর্ডটি নেই।সেই সাথে সমান মাত্রায় চলছে ডাম্পারের বাড়াবাড়ি।আমরা ধূপগুড়ি থানার আইসিকে এই বিষয়ে জানিয়েছি কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।এইভাবে চলতে থাকলে আমাদের পক্ষে এই এলাকায় ব্যবসা করা মুশকিল হয়ে যাবে।খুব দ্রুত প্রশাসন এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।”

এবিষয়ে পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার সিং বলেন , “শহরের যানজট মুক্ত করার ব্যাপারের পুরসভা সবসময় পদক্ষেপ নিয়েছে। আর শহরে যে ডাম্পার বা বালির গাড়ি যাচ্ছে তা পুরসভার সাপ্লাই নয় । কারন তাতে ”অন ডিউটি পুরসভা” লেখা কোনো বোর্ড কি রয়েছে ? নিশ্চই না । থানা রোড থেকে শুরু করে পুরো এলাকার যে সমস্ত রাস্তা দিয়ে লড়ি , ডাম্পার , পন্যবাহি গাড়ি ছুটছে সেই বিষয় টি আমাদের নজরে এসেছে পুলিশ প্রশাসন কে নিয়ে আবার বৈঠক করে করা ভাবে পদক্ষেপের কথা বলা হবে।”

ধূপগুড়ির ট্রাফিক ওসি অভিজিৎ সিনহা বলেন, “পৌরসভার কাজের মাল যাচ্ছে বলে পুরসভার তরফে আমাকে বলা হয়েছে। তাই থানা রোডের নো এন্ট্রি’ বোর্ড সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে শহরের যানজট মুক্ত ব্যাপারে ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত ভাবে নজরদারি এবং কাজ করে চলছে।”

Leave a Reply

error: Content is protected !!