ময়নাগুড়ির পর ধুপগুড়ি-জলপাইগুড়ি : এনার্সি আতংকের বলি ২ : মৃতের পরিবারের পাশে মন্ত্রী অরূপ

নিজস্ব প্রতিবেদক,ধূপগুড়ি,২৪সেপ্টেম্বর’১৯ :-

ময়নাগুড়ির পর এবার ধূপগুড়ি ও জলপাইগুড়ি দুটি পৃথক আত্মহত্যার ঘটনা এন আর সি আতঙ্কে ।ফের একবার এনআরসির আতঙ্কে আত্মঘাতি হলেন দুই ব্যক্তি ,ধূপগুড়ি তে মৃতব্যক্তির নাম শ্যামল রায়(৩৬) ও জলপাইগুড়ির বাহাদুর অঞ্চলের বাসিন্দা সাবির আলি (৩৪)। মঙ্গলবার এমনই এক অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ধূপগুড়িতে ও জলপাইগুড়ির বাহাদুর অঞ্চলে । অন্যদিকে এদিন ময়নাগুড়ির বড়কামাত গ্রামে গত ২০ সেপ্টম্বর এনআরসি আতঙ্কে আত্মঘাতী অন্নদা রায়ের পরের সাথে দেখা করেন রাজ্যের মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস । এরই মধ্যে মন্ত্রীর সফর কালে ফের ধূপগুড়িতে এন আর সি আতঙ্কে আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলা জুড়ে । ধূপগুড়ি পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ওই বাসিন্দা শ্যামল রায় পেশায় টোটো চালক ছিলেন বলে জানা গেছে ।

মৃতের স্ত্রী ময়ান্তী রায় জানান,বেশ কিছুদিন থেকেই ওনার স্বামী এনআরসি আতঙ্কে ভুগছিলেন।ভিটে মাটি ছেড়ে বাংলাদেশ চলে যাওয়ার ভয়ে দিন দিন শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছিলো। তার মধ্যে তিনি অসুস্থ ছিলেন আর চার দিকে নাগরিক পঞ্জির কাগজ পত্র ঠিক না থাকলে তাড়িয়ে দেবে শোনা যাচ্ছে । সেই আতঙ্কও তাড়া করে বেড়াচ্ছিলো । তাই এনআরসির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র জোগাড় করতে না পেরে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন।যেহেতু ওনারা ভাড়া বাড়িতে থাকেন সেই কারণে জমির দলিলও নেই।লোক মারফত জানতে পারে প্রয়োজনীয় কাগজ তৈরি করতে অনেক টাকার প্রয়োজন।আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ার দরুন সেই টাকা কিভাবে জোগাড় হবে সেই দুশ্চিন্তা থেকেই আত্মহত্যার পথ বাছলেন তিনি, এমনটাই অভিযোগ মৃতের স্ত্রীর।

গোবিন্দ পল্লী এলাকায় বর্মন পাড়াতে দুই সন্তান কে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন শ্যামল বাবু।সোমবার রাতে খাবার খাওয়ার পর হহাঁটতে বেরহন তিনি।অনেক রাত হলেও ফিরে না আসায় পরিবারের লোকেরা খুঁজতে বের হন। এরপর বাড়ির পেছনের একটি সীমানা প্রাচীরের পিলারের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়।

খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন,ধূপগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার সিং। তিনি পরিবারের লোকেদের সাথে কথা বলেন ও পাশে থাকার আশ্বাস দেন। মৃতের পরিবারকে সবরকম সাহায্য করার ঘোষণা করেন তিনি।সেই সাথে আগামী বুধবার এনআরসির বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেন তিনি।
মৃতের পরিবারের তরফে ধূপগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ।

ধূপগুড়ি র শ্যামল রায়ের পর জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বাহাদুরে এন আর সি আতঙ্কে আত্মঘাতী যুবক সাবের আলি।কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা। নাগরিক পঞ্জির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করতে না পেরে আত্মহত্যা বলে দাবি পরিবারের।

এদিনি ময়নাগুড়িতে এনআরসি আতঙ্কে আত্মঘাতী অন্নদা রায়ের বাড়িতে গেলেন রাজ্যের যুব কল্যান মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস। এদিন অরুপ বাবু ময়নাগুড়ি এসে দীর্ঘ সময় ধরে তার পরিবারের লোকেদের সাথে কথা বলেন। অরুপ বাবুর সাথে ছিলেন জলপাইগুড়ি জেলা তৃনমুলের সভাপতি কিষান কল্যানি, জেলা যুব তৃনমুলের সভাপতি সৈকত চ্যাটার্জি, ময়নাগুড়ির বিধায়ক অনন্ত দেব অধিকারী সহ অন্যান্যরা।

মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস জানান, এনআরসি আতঙ্ক নিয়ে একেরপর এক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। বিজেপি এর জন্য দায়ি। রাজ্যে তৃনমুল কংগ্রেস থাকতে কোনোভাবেই এনআরসি চালু করা হবে না৷ এন আর সি আতঙ্কে আত্মঘাতী পরিবার দের সব রকম সাহায্য করবে সরকার ।

ময়নাগুড়ি থেকে ধূপগুড়ি তে মৃত শ্যামল রায়ের বাড়িতে ও যানরাজ্যের যুব কল্যান মন্ত্রী অরুপ বিশ্বা ও পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব সাথে ছিলেন ধূপগুড়ির বিধায়ক মিতালি রায় , পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার সিং । কথা বলেন মৃতের স্ত্রী ময়ান্তি রায়ের সাথে । ধূপগুড়ি ১৫ নং ওয়ার্ডের বর্মন পাড়া তে ভাড়া থাকতেন তারা । মন্ত্রীর সাথে এদিন পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার সিং , ওয়ার্ড কাউন্সিলর ধূপগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির দীনেশ মজুমদার সহ অন্যান্যরা ।

অন্যদিকে এন আর সি আতঙ্কে সকাল থেকেই ডিজিটাল রেশন কার্ড তৈরী ও সংশোধন করার জন্য ধূপগুড়ি বিডিও অফিসে হাজার হাজার মানুষ লাইন দিয়েছেন ।লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে ।

রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব বলেন , আমরা লোকের কাছে যাবো, বোঝাবো, অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই । আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালাবো, বোঝাবো । বিজেপি নোংরা রাজনীতির খেলায় মেতেছে, যা লজ্জা জনক । যে কোনো ভাবে এই মৃত্যু মিছিল আটকাতে হবে ।

Leave a Reply

error: Content is protected !!