ঘরের মেয়ে খুন : সুবিচার চেয়ে এক মিছিলে বিজেপি-তৃণমূল-সিপিএম-কংগ্রেস |The4thcolumn

নিজস্ব প্রতিবেদক, ধূপগুড়ি,২১নভেম্বর’১৯ :-

ধূপগুড়ির মেয়ে ইসলামপুরে খুন । অভিযোগে পথে নামলো ধূপগুড়িবাসী । তিন হাজারের বেশি মানুষ মোমবাতি হাতে রাস্তায় নেমে মিছিল করলো । অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ৩১ নং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে অভিযুক্ত দের গ্রেপ্তার ও ফাসির দাবি জানালো তারা । মনিকার মৃত্যুতে গর্জে উঠলো ধূপগুড়ি।দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে দলমত নির্বিশেষে মিছিলে পা মেলালো ধূপগুড়িবাসী। রবিবার ধূপগুড়িতে এক প্রতিবাদ মঞ্চের ডাকে কয়েক হাজার মানুষ একত্রিত হয়ে মনিকার বাড়ির সামনে থেকে ধূপগুড়ি চৌপথি মোড় পর্যন্ত মিছিল করে।প্ল্যাকার্ড হাতে সবাই দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে আওয়াজ তোলেন।প্রত্যেকের বুকে কালো ব্যাচ হাতে মোমবাতি নিয়ে মিছিলে সামিল হন ।

উল্লেখ্য,ধূপগুড়ি কলেজ পাড়া ১ নং ওয়ার্ডের মেয়ে মনিকা।বছর তিনেক আগে ইসলামপুরের জীবন মোড়ের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক সুমন দাসের সাথে তার বিয়ে হয়।তাদের একটি কন্যা সন্তান ও রয়েছে।গত ১৩ নভেম্বর মনিকার বাপের বাড়িতে ইসলামপুর থেকে ফোন করে জানানো হয় যে,তাদের মেয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।এরপরই পাড়া প্রতিবেশী নিয়ে মনিকার বাড়ির লোক ইসলামপুর ছুটে যায়।সেখানে গিয়েই বাড়ির মেয়ের মৃত্যুর পেছনে রহস্যের গন্ধ পায় তারা।এরপর ইসলামপুর থানায় মনিকার শ্বশুর বাড়ির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করতে গেলে প্রথমে কোনো অভিযোগ নেওয়া হয়নি বলেও জানান মৃতার পরিবার।ছেলের বাড়ি প্রভাবশালী হওয়ায় মনিকার মৃত্যুর তদণ্ডের নিরপেক্ষতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মৃতার আত্মীয়রা। মৃতার বাবার অভিযোগ , ইসলামপুর থানার পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেছে । উল্টো দিকে ভয় দেখিয়েছে আমাদের যাতে থানায় অভিযোগ না করি ।

এদিনের মিছিলে সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশগ্রহন করেন । মিছিলে পা মেলান তৃনমূল নেতা অরুপ দে , বিজেপি কাউন্সিলার ধূপগুড়ি পুরসভার বিরোধী দল নেতা কৃষ্ণ দেব রায় , সি পি আই এম নেতা জয়ন্ত মজুমদার সহ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা ও স্কুল কলেজ পড়ুয়ারা ।

ধূপগুড়ি প্রতিবাদী মঞ্চের তরফে এদিন মনিকার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদী নাগরিক মঞ্চের আহ্বায়ক অনিরুদ্ধ দাসগুপ্ত বলেন , মনিকা পাল কে হত্যা করা হয়েছে সে আত্মহত্যা করেনি কারণ ইসলামপুর থানার তরফের যখন ফোন করে তার পরিবার কে জানায় যে সে আত্মঘাতী হয়েছে এবং তাকে নিয়ে যেতে যাতে এলাকা থেকে প্রচুর লোক নিয়ে যাওয়া হয়।সেখান কার থানা থেকে এই ধরণের কথা বলা হয় তখনই সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর যখন সকলে গিয়ে দেখেন সেখানকার অবস্থা এবং এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে যা জানেন তাতে এক প্রকার পরিষ্কার যে সে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে খুন করা হয়েছে। তাই এই হত্যার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছে গোটা ধূপগুড়ি বাসী। তাই আজকে এই মোমবাতি মিছিল করে পথ অবরোধ করা হয়।

Leave a Reply

error: Content is protected !!