২৪ ঘন্টায় উদ্ধার ৩ অসুস্থ ময়ূর : চা বাগানে কীটনাশক প্রয়োগ : দুর্দশায় বন্যপ্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক,জলপাইগুড়ি,১৮ অক্টোবর’১৯:-

চা বাগানে কীটনাশক প্রয়োগ , চিন্তা বাড়াচ্ছে পরিবেশপ্রেমী থেকে বনকর্মীদের। ফের চা বাগান থেকে উদ্ধার অসুস্থ ময়ূর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুটি পৃথক জায়গা থেকে উদ্ধার হলো তিনটি অসুস্থ ময়ূর ।চা বাগানে ব্যবহার করা কীটনাশক খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে বন্যপ্রাণীরা, চিন্তায় পরিবেশপ্রেমী থেকে বনকর্মীরা। ছাপাখানায় পোকা মারার জন্য যে কীটনাশক প্রয়োগ করা হচ্ছে সেই কীটনাশক মিশ্রিত জল এবং কীটনাশক খেয়ে মৃত্যু হচ্ছে বন্যপ্রাণীর অথবা অসুস্থ হয়ে পড়ছে বন্যপ্রাণীরা এমনটাই অভিযোগ পরিবেশপ্রেমী দের।
ডুয়ার্সের বিভিন্ন জঙ্গল লাগোয়া চা বাগান গুলোতে পোকামাকড় মারার জন্য যে কীটনাশক ব্যবহার করা হয় সেই কিটনাশক মিশ্রিত জল এবং মৃত পোকামাকড় খাওয়ার ফলে একের পর এক ময়ূর অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কখনো-কখনো মারা যাচ্ছে বলে দাবি করছেন পরিবেশ প্রেমীরা।

গত ২৪ ঘন্টায় ডুয়ার্সের মানবাজার এলাকায় তিনটি অসুস্থ ময়ূর দুটি পৃথক চা বাগান এলাকা থেকে উদ্ধার করে পরিবেশপ্রেমী সংগঠন ওদলাবাড়ি নেচার অ্যাডভেঞ্চার সোসাইটির সদস্য দের হাতে তুলে দেয়। পরে অসুস্থ ময়ূর গুলিকে বনকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মালবাজারের তারঘেরা জঙ্গল লাগোয়া এলাকা থেকে দুটি অসুস্থ ময়ূর বুধবার উদ্ধার করে পরিবেশ প্রেমীরা। মালবাজারের ওদলাবাড়ি পরিবেশপ্রেমী সংগঠন “ন্যাস” এর সদস্যরা।
এমন কি বৃহস্পতিবার রাতেও মালবাজারের কুমলাই চা-বাগানে একটি অসুস্থ ময়ূরকে দেখতে পায় বাগানের শ্রমিকরা। এরপর বিষয়টি জানানো হয় পরিবেশ প্রেমীদের খবর পেয়ে নেচার এডভেঞ্চার সোসাইটি ওদলাবাড়ি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা অসুস্থ ময়ূর টিকে উদ্ধার করে এরপর তুলে দেওয়া হয় বনকর্মীদের হাতে।

এর আগেও ডুয়ার্সের চা বাগানে কীটনাশক প্রয়োগের ফলে চিতাবাঘের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এমনকি জংলি শুয়োর, হরিণের মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছিলো। যার ফলে ফের নতুন করে চা-বাগানের কীটনাশকের প্রভাবে ময়ূর অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় রীতিমতো চিন্তিত পরিবেশপ্রেমী থেকে বন অধিকারীকরা।

ওদলাবাড়ি নেচার এডভেঞ্চার সোসাইটি কো-অর্ডিনেটর নফসর আলী বলেন, চাবাগান গুলিতে অত্যাধিক পরিমাণে কীটনাশক প্রয়োগের ফলে ক্ষতি হচ্ছে বন্যপ্রাণীদের এবং অন্যান্য জীবের এর আগেও ডুয়ার্সের একাধিক চা-বাগানে কীটনাশক প্রয়োগের ফলে চিতাবাঘের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এমনকি কীটনাশক খেয়ে মৃত্যু পোকামাকড় খেয়ে একাধিক ময়ূর অসুস্থ হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছিল। আবার পুনরায় নতুন করে তিনটি অসুস্থ ময়ূর উদ্ধার হলো মালবাজার এর দুটি পৃথক জায়গা থেকে। যার ফলে আমরা রীতিমত চিন্তিত। আমরা দাবি জানিয়েছি চা বাগানগুলোতে কীটনাশক প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে এবং প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বাগান কর্তৃপক্ষ কে। পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে চাবাগান ও বন বস্তি এলাকা গুলিতে আমাদের সংগঠনের তরফে।

জলপাইগুড়ির অননাড়ি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরী বলেন, চা বাগান গুলোতে কীটনাশক প্রয়োগের ফলে পোকা মরার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীরাও মারা যাচ্ছে। এর আগেও মাদারিহাট, বিরপাড়া সহ ডুয়ার্সের একাধিক এলাকায় চা বাগানে বিষক্রিয়ায় চিতাবাঘের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে হরিণের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে ফের তিনটি ময়ূর অসুস্থ হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। আমরা খুবই চিন্তিত, চা বাগান মালিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা হবে এবং কীটনাশক বন্ধ করে তার পরিবর্তে বিকল্প কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় যাতে তার জন্য বলা হবে বাগান মালিক কর্তৃপক্ষকে।

চা বাগান মালিক সংগঠন ডি বি আই টি এ সম্পাদক সুমন্ত গুহঠাকুরতা তিনি বলেন, এই ধরনের কোন খবর আমাদের কাছে এখনো জানা নেই। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি কি কারণে অসুস্থ হয়েছে ময়ূর গুলি সেটাও জানতে হবে। এর আগে কোন প্রাণী মারা গেছে কিনা কীটনাশকের ফলে আমাদের তা জানা নেই। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি, না জেনে কোন মন্তব্য করা যাবে না।

Leave a Reply

error: Content is protected !!