নিজস্ব সংবাদদাতা,ধূপগুড়ি,৮ সেপ্টেম্বর’১৯:-

জেলা পরিষদের খাস জমি দখল হচ্ছে শহরে, নীরব জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ । ধূপগুড়ি শহরের প্রান কেন্দ্র জেলাপরিষদের ডাক বাংলো সংলগ্ন এলাকায় বেশ কিছুদিন থেকে ধূপগুড়ির একটি ক্লাব সরকারি জমিতে টাকার বিনিময়ে ব্যবসায়ীদের বসাচ্ছেন । যার ফলে ওয়ার্ডের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বেদখল হচ্ছে সরকারি জমি । অভিযোগ , ধূপগুড়ির এস টি এস ক্লাবের তরফে মোটা টাকার বিনিময়ে সরকারি জায়গার মধ্যে দোকান দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই । এর ফলে এদিকে যেমন সরকারি জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে তেমনি নষ্ট হতে বসেছে পরিবেশ, ছড়াচ্ছে দূষন ।
অভিযোগ , প্রভাবশালী এস টি এস ক্লাবের দাপটে দখল হয়ে যাচ্ছে সরকারি জমি। জেলাপরিষদের জমিতে তোলা নিয়ে সেখানে ব্যবসায়িদের বসানোর অভিযোগ ক্লাবের বিরুদ্ধে। ক্লাবের কিছু কিছু সদস্য এই দোকানদারদের নিয়ন্ত্রন করেন । এলাকাবাসী আপত্তি করলেও ক্লাবের ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে । শাসক দলের প্রভাবশালী নেতা সেই ক্লাবের সদস্য হওয়ায় প্রশাসনও এই বিষয়ে কোনো হেল দোল দেখাচ্ছেনা বলেও অভিযোগ ।ধূপগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার সিং সব জেনেও নীরব । তিনি নিজেও এস টি এস ক্লাবের সদস্য । ফলে দিনকে দিন ধূপগুড়ি মিলনী পাঠাগার সংলগ্ন ময়দান বেদখল হয়ে মাছ-মাংসের বাজারে পরিণত হয়েছে। যার ফলে দূষিত হচ্ছে এলাকা, দুর্গন্ধের জেরে মিলনি পাঠাগারের পাঠকের সংখ্যা তলানিতে ঠেকেছে। অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠায় এই বাজার পরিষ্কার করার দায়িত্ব জেলাপরিষদ নিচ্ছে না। এর জেরে সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা সহ পথ চলতি সাধারণ মানুষ।

যদিও নিজের ওয়ার্ডে এইভাবে সরকারি জমি হাত ছাড়া হওয়াতে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ ধুপগুড়ি পৌরসভা ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুনমুন বোস। তিনি বলেন “বহুবার পুরসভাকে বলেছি পাড়ার ভেতরে যেভাবে মাছের দোকান এবং মাংসের দোকান গজিয়ে উঠেছে তার ফলে এলাকায় দূষণ ছড়াচ্ছে।এই দুর্গন্ধে থাকা দুষ্কর হয়ে যাচ্ছে বাসিন্দাদের পক্ষে।এমনকি পাশেই রয়েছে রাজ্যের মধ্যে প্রথম গ্রন্থাগার সম্মান পাওয়া মিলনি পাঠাগার । সেখানেও পাঠকরা এই দুর্গন্ধের জেরে পড়তে আসতে পারছেন না । স্থানীয় ক্লাবের তরফ এই দোকান গুলি বসানো হয়েছে । পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান কে বহুবার বলেছি তারা কোনো কর্ণপাত করছে না বিষয়টি নিয়ে । অবিলম্বে এখান থেকে এই দোকান গুলি সরিয়ে দেওয়া উচিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মাছ ব্যবসায়ী বলেন, আগে আমরা মোট তিনজন বিক্রেতা এখানে মাছের দোকান করতাম। পরে আরও দুটি দোকান বসে সব মিলিয়ে পাঁচটি দোকান ছিল। তাতে কোন সমস্যা ছিল না। আমরা দোকান করতাম সকালে এবং তারপর পরিষ্কার করে চলে যেতাম। এখন স্থানীয় ক্লাব এর তরফে এক এক করে ১৪ টি মাছের দোকান, এমন কি তিনটি মাংসের দোকান বসিয়েছে। আমরা আপত্তি করেছিলাম এখানে এতোবেশি দোকান বসাতে। নতুন ব্যবসায়ী রা আমাদের জানিয়েছেন তারা ক্লাব কে টাকা দিয়ে দোকান বসিয়েছেন। বেশি দোকান হওয়ার ফলে একদিকে যেরকম আমাদের ব্যবসা মার খাচ্ছে তেমনি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষের বিষয়টি দেখা উচিত।
ধুপগুড়ি মিলনে পাঠাগারের গ্রন্থাগারিক রাজু রায় বলেন, এখানে মাছের এবং মাংসের দোকান বেশি হওয়ায় প্রচন্ড দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। জানালা খুললেই হাওয়াতে সে মাছের এবং মাংসের র্দুগন্ধ ঘরের ভিতরে চলে আসে। পাঠকদের সমস্যা হয় অবিলম্বে পুরসভার বিষয়টি দেখা উচিত।নয়তো অদূর ভবিষ্যতে এই ময়দান আবর্জনার স্তূপে পরিণত হবে ও এই পাঠাবার পাঠক হারাবে।
এস টি এস ক্লাবের সদস্য তথা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার সিং বলেন , ক্লাবের কোনো সদস্য যদি টাকা নিয়ে বসিয়ে থাকে তাহলে অভিযোগ জানানো হোক পুরসভা কে । আর এলাকায় দোকানের ফলে সমস্যা হলে পুরসভা কে অভিযোগ জানাক বাসীন্দারা, পুরসভা ব্যবস্থা গ্রহন করবে ।
ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিজেপি নেতা শিবু চক্রবর্তী বলেন, প্রকাশ্যে এভাবে মাংস কেটে ঝুলিয়ে রেখে বিক্রি করা এবং মাছ বাজার পরিবেশ নষ্ট করছে। ছোট ছোট খুদে পড়ুয়ারা এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। তাদের মনে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে এই মাংস কাটা এবং ঝুলিয়ে রাখার ফলে। পুরসভার উচিত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। মাংস এবং মাছ বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট বাজার রয়েছে এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট জায়গাতেই মাংস কেটে বিক্রি করা উচিৎ। এই সবের জন্য বাজার আলাদা রয়েছে। তারপরও কেন পুরসভা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা অবাক লাগে সেই বিষয়টি।