নিউজ ডেস্ক , দ্য ফোর্থ কলাম , ১৭ ডিসেম্বর ‘১৯:-

ডুয়ার্সের মুক্ত আকাশে ছাড়া হলো ছয়টি শকুন ,রাজাভাতখাওয়ার শকুন প্রজনন কেন্দ্র থেকে ।
রাজ্যে এই প্রথম কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র থেকে একসাথে মোট ছয়টি শকুনকে প্রকৃতিতে ছাড়াল বন দপ্তর।মঙ্গলবার এই ছয় শকুনকে রাজাভাতখাওয়া শকুন প্রজনন কেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলক ভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশে ছাড়া হলো। তবে প্রথমেই হোয়াইট ব্যাক্ড স্লেন্ডার বিল্ড অথবা লং বিল্ড প্রজাতির শকুনকে মুক্ত করার ঝুঁকি নিতে চাইছে না বন দপ্তর। পরিবর্তে হিমালয়ান গ্রিফন প্রজাতির শকুনদের দিয়েই পরিবেশ থেকে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ঝাড়ুদার পাখিদের প্রকৃতিতে ফেরানোর কাজ শুরু হলো বলে মনে করছে বনদপ্তর । কারণ শকুন সংরক্ষকরা জানিয়েছেন যে, স্বভাবগত দিক দিয়ে হিমালয়ান গ্রিফন প্রজাতির শকুনরা অনেক বেশি কষ্টসহিষ্ণু। ওই দুই শকুনের গতিবিধির উপর নজরদারির জন্য উপগ্রহ কলার প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে বন দপ্তর।
ভিডিও বার্তা দেখতে ক্লিক করুন এই রেড লাইনে …
৬ টি হিমালয়ান গ্রিফন খাঁচা মুক্ত করা হলো রাজাভাতখাওয়া শকুন প্রজনন কেন্দ্র থেকে, ভিডিও বার্তা দেখুন এইখানে ক্লিক করে
২০০৬ সালে তৈরি হওয়া দেশের দ্বিতীয় শকুন প্রজনন কেন্দ্র রাজাভাতখাওয়ায় হোয়াইট ব্যাক্ড, স্লেন্ডার বিল্ড, লং বিল্ড ও হিমালয়ান গ্রিফন প্রজাতির প্রায় ১০০টি শকুন রয়েছে। কিন্তু গবাদি পশুর দেহে ব্যথা উপশমের ওষুধ ডাইক্লোফেনাক ব্যবহার বন্ধ হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে না পেরে এত দিন ওই শকুনদের প্রকৃতিতে ছাড়ার কোনও ঝুঁকি নেয়নি বন দপ্তর। মৃত গবাদি পশুর দেহে ডাইক্লোফেনাক থাকলে, তার মাংস শকুনদের কিডনি বিকল করে দেয়। যার ফলে সারা বিশ্ব জুড়ে ডাইক্লোফেনাকের ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়। গত দশ বছর ধরে ভারতেও ওই ওষুধের ব্যবহার বন্ধ থাকায় বর্তমানে শকুনরা অনেকটাই নিরাপদ বলে মনে করছে বন দপ্তর। বিষয়টি নিশ্চিত হতেই চলতি বছরে ফেব্রুয়ারী মাসে জলপাইগুড়ির চালসায় শকুন সংক্রান্ত সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়৷ যেখানে অংশ নিয়েছিলেন সারা দেশের শকুন সংরক্ষক বিজ্ঞানী, কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রকের আধিকারিক-সহ রাজ্যের শীর্ষ বনকর্তারা। সেদিনের ওই সেমিনারেই ঠিক করা হয় শকুন ছাড়ার দিন-তারিখ।
প্রতিবেশী দেশ নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটানে ডাইক্লোফেনাকের ব্যবহার বন্ধ করার বিষয়ে দায়িত্ব নিয়েছে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক।
কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র থেকে প্রকৃতিতে ছাড়ার আগে দুইটি শকুনের গায়ে পরানো হয়েছে উপগ্রহ কলার। ওই প্রযুক্তির সাহায্য নিতে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রকের কাছে থেকে মঞ্জুরী পেয়েছে রাজ্য বন দপ্তর। ওই বিশেষ উপগ্রহ কলার আনা হয়েছে আমেরিকা থেকে। তবে ছয়টি শকুনকে সরাসরি প্রকৃতিতে না-ছেড়ে প্রায় তিন মাস রাখা হয়েছিলো ওপেন অ্যাভিয়ারিতে। তার পরই আজ সকালে এই ওপেন অ্যাভিয়ারির দরজা খুলে দেন দপ্তরের মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় । এছাড়াও এদিন উপস্থিত ছিলেন মুখ্য বনপাল রতিকান্ত সিনহা সহ দপ্তরের আধিকারিকরা।
