নিজস্ব প্রতিবেদক,কোচবিহার, ৪ জানুয়ারি ‘২০২০ :-

তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বাজারে কয়েক টি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল দিনহাটা এক ব্লকের গোসানিমারি এলাকায় । শনিবার বিকালে ব্লকের গোসানিমারি বাজার এলাকায় এই গন্ডগোলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আক্রমণ প্রতিআক্রমনের অভিযোগ উঠে তৃনমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে । তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি মালতি রাভার নেতৃত্বে ওই দলের দুষ্কৃতিরা গোসানিমারি হাসপাতাল এলাকায় থাকা তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে । এমনকি দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে থাকা কর্মী সমর্থকদের মারধর করা হয়। বিজেপির পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের বলেই পাল্টা অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে অবশ্য ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানা গেছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে এদিন তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে কর্মী সমর্থক মিছিল করলে গোটা বাজার চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ছাড়াও কয়েক টি দোকান ভাংচুরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূল ও বিজেপি উভয়ের বিরুদ্ধে।
এদিন ব্লকের গোসানিমারি তে দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর এবং কর্মীদের আক্রমণের খবর পেয়েই সেখানে ছুটে যান তৃণমূলের জেলা কার্যকরী সভাপতি পার্থ প্রতিম রায়, সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রের কার্যকরী কমিটির কনভেনার কোচবিহার জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নুর আলম হোসেন প্রমুখ।
তৃণমূলের কোচবিহার জেলা কার্যকরী সভাপতি পার্থ প্রতিম রায় বলেন গত ৩০ শে ডিসেম্বর দলের বিধায়ক জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া কোচবিহারে বইমেলার উদ্বোধন থেকে ফেরার সময় তাকে গোসানিমারি তে খুনের চেষ্টা করে বিজেপি কর্মী সমর্থক রা। এরপর এদিন দলের কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়। শান্ত গোসানিমারি কে অশান্ত করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তার অভিযোগ। তৃণমূল নেতা নুর আলম হোসেন বলেন বিজেপির জেলা সভানেত্রী মালতি রাভার নেতৃত্বে বিজেপি দলের কর্মী-সমর্থকরা দলের অঞ্চল কার্যালয় ভাঙচুর চালায়। এছাড়াও বেশ কয়েকজন কর্মী সমর্থক কে মারধর করে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে বিধায়ক জগদীশ বসুনীয়া যখন নানা ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে তখন বিজেপি এলাকা কে অশান্ত করে তোলার চেষ্টা করছে। গোটা ঘটনা রাজ্য নেতৃত্ব কে জানানো হয়েছে বলে তৃণমূল নেতা নুর আলম হোসেন জানান।
বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি মালতি রাভা জানান গত ৩০ শে ডিসেম্বর কোচবিহারের অভিনন্দন যাত্রার আগে ও পরে কর্মীদের ওপর নানাভাবে আক্রমণ করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও তদন্ত করার চেষ্টা হয়নি। তিনি বলেন বিধায়কের উপর আক্রমণের ঘটনায় তৃনমূল দলের কর্মী-সমর্থকরা যেমন যুক্ত তেমনি মিথ্যা মামলায় বিজেপি দলের কর্মী-সমর্থকদের পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র। এদিন গোসানিমারি দলের কর্মী পরেশ রায়ের বাড়িতে তিনি যান। তিনি বলেন এদিন তৃনমূল কর্মীরা বিজেপি কর্মী সুভাষ বর্মন এর দোকান ভাঙচুর করে । তিনি বলেন বিজেপিকে কালিমালিপ্ত করার জন্য নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের কে তাদের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে দিনহাটা থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বলেন তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুর ছাড়াও দুটি দোকান ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। লিখিত কোন অভিযোগ জমা পড়েনি। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।
