নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৯ ফেব্রুয়ারি’২০২০ :-

একদিকে এক অনাথ গন্ডার শাবক ,অন্যদিকে তার মায়ের রহস্যজনক মৃত্যু । উঠে আসছে মারন রোগ অ্যানথ্রাক্স । দুইয়ের মাঝে নাভিশ্বাস ফেলছে জলদাপাড়া ।
মাঝে প্রায় সাত বছরের বিরতি । ফের এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সম্মুখীন হল জলদাপাড়া বন বিভাগ । মারা গেল সদ্য মা হওয়া এক গন্ডার । একটানা আড়াই মাস ধরে বনকর্মীদের নজরে ছিল সদ্য মা হওয়া যে গন্ডার, তাকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখতে হলো অসহায় বনকর্মীদের । তবে ঘটনাটি জঙ্গলের ভেতরে নয়, ঘটেছে লাগোয়া লোকালয়ে। বুধবার বিকেল নাগাদ যখন মারা যাচ্ছে মা গন্ডার , তখন তার আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে আড়াই মাসের শাবক । বুধবার দুপুরের পর এমন একটি খবর পেয়েই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে জলদাপাড়া বনবিভাগের শীর্ষকর্তা সহ অন্যান্য কর্মীরা ছুটে যান । নিয়ে আসা হয় কুনকি হাতি এবং উদ্ধার করা হয় মাদি গন্ডার টিকে। এবং সেই সঙ্গে নিয়ে আসা হয় শাবকটিকে । গোটা ঘটনাটি ঘটেছে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের শিসমারা বিট লাগোয়া এলাকায় , জনৈক বিদুর বিশ্বাসের জমিতে । সেখানেই মৃত্যু হয় মা গন্ডার টির। এবং সঙ্গে অনাথ হয়েছে শাবক গন্ডারটি । উল্লেখ্য হস্তিশাবক হলে তার জায়গা হয় পিলখানায়। বড় করে কুনকি হাতি বানানোর বহু উদাহরণ রয়েছে জলদাপাড়ায়। এমনকি পূর্ণবয়স্ক লেপার্ড উদ্ধার করেও বাঁচিয়ে রেখেছে জলদাপাড়া । কিন্তু গন্ডার ! সাত বছর আগের উদাহরণ সামনে আসছে । যখন ঠিক এমনভাবেই এক গন্ডার শাবক উদ্ধার হয় ,যার নামকরণ হয় জলদাপাড়ার নামানুসারে ‘জলদা প্রসাদ’ এবং শেষ অবধি যার ঠাঁই হয় আলিপুর চিড়িয়াখানায় । এক্ষেত্রেও কি তাই হতে চলেছে ?
যদিও , ভারপ্রাপ্ত ডি এফ ও কুমার বিমল জানান, শাবক টিকে কড়া নজরে লোকচক্ষুর আড়ালে জঙ্গল গভীরে ‘আলাদা’ করে রাখা হয়েছে । পশু চিকিৎসকরা দেখছেন । পরবর্তীতে এ নিয়ে সঠিক পথ বের করা হবে ।
অন্যদিকে , লোকালয়ে এসে মা গন্ডারের এই রহস্য জনক মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরী হয়েছে । খোদ বনমন্ত্রী সন্দেহ প্রকাশ করে ময়নাতদন্তের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন । এর সঙ্গেই রাজীব বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন, গন্ডারের মৃত্যুর কারন প্রাথমিক ভাবে অ্যানথ্রাক্স বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ময়না তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত পরিষ্কার করে কিছু বলা সম্ভব নয়। জঙ্গল লাগোয়া এলাকা গুলিতে সচেতনতামূলক প্রচার করা হবে এবং জঙ্গলে গৃহপালিত প্রাণী ঢোকা বন্ধের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।