নিজস্ব প্রতিবেদক,আলিপুরদুয়ার, ১২ জানুয়ারি’২০২০ :-

হাতি-লেপার্ড এর পর এবার দিনেদুপুরে সটান গন্ডার এসে হাজির বাড়ির উঠোনে।তাও একাকি নয়।রীতিমতো সঙ্গিনীকে নিয়ে উঠোনের ধারের খড়ের গাদায় ঘাঁটি গাড়ে এক বিশালাকায় পুরুষ গন্ডার।ঘটনা জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন বনবস্তি কোদালবস্তির।প্রাণ ভয়ে দরজায় খিল দিয়ে ইস্টনাম জপা শুরু করেন কোদালবস্তির বাসিন্দা শ্যামল রাভা ও তাঁর পরিবারের লোকেরা।রাতের অন্ধকারে গন্ডার লোকালয়ে চলে এলেও একেবারে দুপুর বেলায় জোড়া গন্ডার বাড়ির রোয়াকে এসে হাজির হওয়ায় আক্কেলগুড়ুমের দশা ওই অসহায় পরিবারটির।তখন বেলা প্রায় দু’টো।সারাদিন পরিশ্রমের পর বাড়ির উঠোনে শীতের দুপুরে সামান্য উষ্ণতার খোঁজে ভাত খেতে বসেছিলেন শ্যামল বাবু।আচমকাই ধসমস শব্দে মাটি কাঁপিয়ে তাঁর দিকে ধেয়ে আসতে শুরু করে দুই প্রকান্ড গন্ডার।বিপদ আঁচ করতে সময় নেননি বনবস্তির ওই পোড়খাওয়া বাসিন্দা।চোখের নিমেষে খাবার ফেলে দিয়ে একলাফে উঠে পড়েন কাঠের টংঘরে।দীর্ঘদিন ধরে বনের পাশে আস্তানা হওয়ায় গন্ডারদের গতিবিধির বিষয়ে প্রচুর অভিজ্ঞতা রয়েছে শ্যামলের।তাই চোখের সামনে মৃত্যুর হাতছানি দেখতে পেয়েও নিজেকে রক্ষা করেন উপস্থিত বুদ্ধির জোরে।তিনি জানান “একবার দৌড়োনোর চেষ্টা করলেই নিশ্চিত বিপদ ছিল আমার।তাই কালবিলম্ব না করে সটান এক লাফে টংঘরে উঠে যাই।ইতিপূর্বে বহু বার গন্ডার বাড়ির ধারে চলে এলেও সরাসরি উঠোনে আসেনি কখনও।জোর বাঁচা বেঁচে গেছি।” ঘটনার খবর পেয়ে কোদালবস্তিতে ছুটে আসেন বনকর্মীরা।রীতিমত পটকা ফাটিয়ে বিকট হল্লা চালিয়ে বনের ঘরে পাঠান দুই আগন্তুককে।তাড়ানোর সময় ক্ষেপে গিয়ে দু-একবার বনকর্মীদের দিকে তেড়েও আসে যুগল গন্ডার।জঙ্গলে ফেরার আগে এঁফোড়ওঁফোড় করে দিয়ে গিয়েছে শ্যামল বাবুর খড়ের গাদা। হাতি, লেপার্ড ও বাইসনের পর দিনের আলোয় লোকালয়ে গন্ডার চলে আসায় নতুন করে মানুষ-বন্যপ্রাণের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে । জলদাপাড়া বনবিভাগের ডিএফও কুমার বিমল জানিয়েছেন “জঙ্গলের পাশে লোকালয় থাকলে গন্ডারসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণিরা চলে আসতেই পারে।কারন স্বভাবগত ভাবেই বন্যপ্রাণ দেশকালের গন্ডি মানে না।আমরা সজাগ রয়েছি।”
