খোঁজ মিলল জলদাপাড়া গন্ডার হত্যায় ব্যবহৃত থ্রি নট থ্রি রাইফেলের : গ্রেফতার চোরাশিকারী চক্রের চাঁই |The4thcolumn

নিউজ ডেস্ক ,দ্য ফোর্থ কলাম, ১০ ডিসেম্বর’১৯ :-

গন্ডার হত্যার তদন্তে নেমে শেষ অবধি প্রাণঘাতী হাতিয়ারের খোঁজ পেল রাজ্য বন দফতর । যা গন্ডার চোরাশিকারের অবৈধ সাম্রাজ্যকে সম্পুর্ন রূপে বুঝে উঠে আগামীতে এই বন্য প্রাণ হত্যালীলা রোধে পারঙ্গম হয়ে উঠবে বলেই আশাবাদী বন বিভাগ । জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে গত ৩১অক্টোবর যে পূর্ণবয়স্ক মাদি গন্ডারকে হত্যা করা হয়েছিল, তাতে চোরাশিকারীরা থ্রি নট থ্রি রাইফেল ব্যবহার করেছিল।মনিপুর পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার হয়েছে ওই রাইফেল।সঙ্গে মিলেছে প্রচুর তাজা কারতুজ। চোরাশিকারীদের ব্যবহৃত গাড়ির চালককে গ্রেপ্তারের পরেই ওই বন্দুকের হদিস পায় মনিপুর পুলিশ।তদন্তে নেমে ওই দলের অন্যতম সদস্য, অসমের কুখ্যাত চোরাশিকারী চন্দন ব্রহ্মকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।তদন্তে জানা গিয়েছে ওই দলটিতে মোট আট জন সদস্য ছিল।তদন্তের স্বার্থেই বাকি অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করতে চাইছে না বনদপ্তর।মঙ্গলবার জলদাপাড়া গন্ডার হত্যা মামলার তদন্তের ওই অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন রাজ্যের বন্যপ্রাণ শাখার প্রধান মুখ্য বনপাল রবিকান্ত সিনহা। তিনি জানিয়েছেন “মনিপুর পুলিশের পক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া ওই রাইফেলটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।ধৃতদের হেফাজতে পাওয়ার জন্য মনিপুর আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে রাজ্য বনদপ্তর।” গত ৩১ অক্টোবর জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের উত্তর রেঞ্জের পঞ্চাশ ফুট বিটের জঙ্গলের গভীরে একটি পূর্ণবয়স্ক মাদি গন্ডারকে গুলি করে হত্যা করে চোরা শিকারীরা।ধারালো অস্ত্রের সাহায্যে কেটে নিয়ে যায় শৃঙ্গ।ময়নাতদন্তের পর গন্ডারটির খুলি থেকে উদ্ধার হয় বুলেট।প্রমাণ মেলে যে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কোনো শার্প শ্যুটার শৃঙ্গের ঠিক উপরের অংশ ফুঁড়ে দেয় বুলেটের সাহায্যে। গন্ডারটির অত্যন্ত শক্ত খুলি চৌচির হয়ে যাওয়ায় তখনই বনকর্তারা প্রায় নিশ্চিত হয়েছিলেন যে, ওই হত্যাকান্ডে থ্রি নট থ্রি রাইফেলই ব্যবহার করা হয়েছিল এবং প্রচন্ত দক্ষতার সাথে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকেই হত্যা করা হয়েছিল গন্ডারটিকে ।হত্যায় ব্যবহৃত রাইফেলটি উদ্ধার হওয়ায় তাঁদের সেই আশঙ্কা সত্যি প্রমাণিত হ’ল।গন্ডার হত্যা কান্ডের কিনারা করতে বনদপ্তরকে পুলিশের সাথে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল সিআইডি।ওই যৌথ তদন্তেই প্রমাণিত হয় যে, গন্ডারটিকে হত্যার পর শৃঙ্গ নিয়ে সড়ক পথেই অসম হয়ে মনিপুর পালিয়ে গিয়েছিল চোরাশিকারীদের দলটি।রাজ্য বনদপ্তরের অনুরোধে তদন্তে নেমে দিন পনেরো আগে চোরাশিকারীদের ব্যবহৃত গাড়িটি উদ্ধার করে মনিপুর পুলিশ।ওই সুত্র ধরে গ্রেপ্তার করা হয় গাড়ির চালককে।গন্ডার হত্যার পরের দিনই জলদাপাড়া সংলগ্ন বনবস্তির বাসিন্দা শ্যামল সুবাকে গ্রেপ্তার করে বনদপ্তর।ওই গন্ডার হত্যাকান্ডের পরবর্তী সময়ের হালের এই অগ্রগতিকে বড় সাফল্য বলেই মনে করছেন রাজ্যের শীর্ষ বনকর্তারা।

  -: জেনে নিন থ্রি নট থ্রি রাইফেলের খুঁটিনাটি :-
——————––———-

থ্রি নট থ্রি রাইফেল।প্রকৃত নাম ‘লি এনফিল্ড’ রাইফেল।১৮৯৫ সালে ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ার জেমস লি-র নকশায় ইংল্যান্ডের এনফিল্ড শহরের স্মল আর্ম ফ্যাক্টরিতে প্রথম ওই রাইফেল তৈরি হয়। এই জন্যেই অত্যন্ত ক্ষমতা সম্পন্ন ওই রাইফেলের নামকরণ হয় ‘লি এনফিল্ড’ রাইফেল। গুলির ব্যাস .৩০৩ ইঞ্চি। এই রাইফেলে ব্যবহৃত গুলিকে এমকে vii SSA BALL বলা হয়। একজন দক্ষ শ্যুটার মিনিটে কুড়ি থেকে পঁচিশটি গুলি ছুড়তে পারেন ওই রাইফেলের সাহায্যে । রাইফেলের নলের মধ্যে গুলির গতি সেকেন্ডে ৭৪৪ মিটার। রাইফেল থেকে ছোড়া গুলি  ৫০০ মিটার দূরেও লক্ষ্যভেদ করতে পারে। ম্যাগাজিনে ১০টি গুলি থাকে। রাইফেলের ওজন প্রায় চার কেজি। ১৮৯৫ থেকে ১৯০৪ সাল পর্যন্ত ওই বন্দুক পুরোদমে তৈরি করা হয়েছে।প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে ইংল্যান্ডে ১কোটি৭০ লক্ষ লি এনফিল্ড রাইফেল তৈরি হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও তার কদর কমেনি এতটুকু।১৯৪৮ সালের আরব-ইজারায়েল যুদ্ধে ইজারায়েলের মহিলা সেনাবাহিনী ওই রাইফেল ব্যবহার করে অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করে।আর একটি বড় বিষয় ইংল্যান্ডের পর সারা পৃথিবীর মধ্যে শুধুমাত্র ভারতের ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরিতেই লি এনফিল্ড রাইফেল তৈরির নজির রয়েছে।এখন ওই মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্রকেই হাতি অথবা গন্ডার হত্যার হাতিয়ার করেছে চোরাশিকারীরা। 

Leave a Reply

error: Content is protected !!