নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৬ ডিসেম্বর’১৯:-

ছবি – স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথে প্রসেনজিৎ ।
ডুয়ার্সের জলদাপাড়া জঙ্গল ঘেঁষা ছোট্ট এলাকা নতুনপাড়া । বাড়ি ফেরার পথে বাইসনের সামনে পড়ে যায় স্থানীয় এক যুবক । বাইসন সামান্য গুঁতো মারে । তাতেই পেট ফুঁড়ে যায় যুবকের । পেটের ভিতরেই ছত্রখান হয়ে ফুটিফাটা হয়ে যায় যকৃৎ (লিভার) । বাঁচার আশা হয়তো ছেড়েই দিয়েছিল দিন আনি দিন খাই পরিবারের যুবকটি । কিন্তু ফের একবার অসাধ্য সাধন করল আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল । যে ‘অপারেশন’ নামীদামী মহানগরীয় হাসপাতাল ছাড়া সম্ভব নয় বলেই জানে ও মানে রাজ্যের চিকিৎসা মহল , সেই জটিলতর শল্য চিকিৎসা ‘সাকসেস’ করে , যুবককে কার্যত যমালয় থেকে ফিরিয়ে আনল জেলা আলিপুরদুয়ার হাসপাতাল । এবং আক্ষরিক অর্থেই জেলা হাসপাতাল (পড়ুন সরকারী হাসপাতাল ) ও তার ‘সরকারী ডাক্তারদের’ কুর্নিশ না জানিয়ে পারছে না জেলা বাসী ।
সূত্রের খবর , বাইসনের হামলায় আক্রান্ত হয়েছিল এক যুবক, তাকে মৃত্যুমুখ থেকে ফিরিয়ে এনে সাহসিকতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল। ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে শহর জুড়ে। জানা গেছে, গত ২রা ডিসেম্বর জলদাপাড়ার নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ খারিয়া নামে এক যুবককে জঙ্গলের ধারে একটি বাইসন (গাউর) গুঁতো মারে। তাকে গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে জানা যায় , যুবকটির পেটের ভিতরেই লিভারটি পুরো ফেটে গেছে, সেইসাথে তার পেটের ভেতরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে যুবকটিকে চটজলদি অপারেশন না করলে বাঁচানো মুশকিল। তবে তাকে সুস্থ করতে কোনো বড়সড় হাসপাতালে ভর্তি করে গ্যাসট্রো সার্জেন দ্বারা অপারেশনের প্রয়োজন ছিল
কিন্তু আর্থিক বৈষম্যের শিকার যুবকের পক্ষে ‘বড়’ হাসপাতালে ( পড়ুন নার্সিং হোম) যাওয়া ছিল অকল্পনীয় ব্যাপার । সে কারণে, আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালেই রেখে মেডিকেল টিম গঠন করে অপারেশন করা হয়। এবং সফল হয় জড়লা আলিপুরদুয়ার হাসপাতাল । এ প্রসঙ্গে, আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল সুপার ড. চিন্ময় বর্মন জানিয়েছেন, বাইসনের হামলায় আহত ওই যুবকের অপারেশন করার জন্য মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছিল । টিমে ছিলেন ড. সফিকুল ইসলাম, ড. ইন্দ্রজিৎ সরকার ও নার্সিং স্টাফ সুচিস্মিতা পান্না। অপারেশন হবার পরেও তার সুস্থতার অপেক্ষায় ছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। টানা দুঘন্টা ধরে চলেছে তার অপারেশন। তারপর গত ১৫তারিখ যুবকটিকে হাসপাতাল থেকে সুস্থ অবস্থায় বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। আপাতত সে সুস্থ রয়েছে, এবং তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় স্বাভাবিক শোরগোল পড়েছে চিকিৎসক মহলে।
