নিউজ ডেস্ক , দ্য ফোর্থ কলাম, ২০ ডিসেম্বর’১৯:-

শুক্রবার শীতের সকালে আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাট পর্যটন দপ্তরের লজে ঢুকে পড়ে এক আস্ত গন্ডার । যদিও, এই অনাহূত অতিথি কারো কোনো অনিষ্ট করেনি ।
ডুয়ার্সের কুয়াশাবৃত সকাল লজের বারান্দায় বসে উপভোগ করছিলেন গুটি কয়েক পর্যটক । তখনই কাছের গাছপালাগুলি আচমকা নড়ে উঠতে দেখেন তাঁরা। কিছুক্ষনের মধ্যেই সবাইকে অবাক করে দিয়ে বিশাল চেহারার এক গন্ডার বেরিয়ে আসে প্রকাশ্যে।মুহুর্তের মধ্যেই পর্যটকদের তীব্র শীতের আমেজ কেটে গিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় ।
জলদাপাড়ার মূল জঙ্গল থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে সরকারী এই ট্যুরিজম লজটি । লজের কর্তারা বলছেন, তাদের লজে এই প্রথমবার পা রেখেছে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের জগৎ বিখ্যাত এক শৃঙ্গ গন্ডার। ইদানিংকালে অবশ্য লজের জানালায় চোখ রাখলে ওই দূরের জঙ্গলে প্রায়ই হাতি, বাইসনদের দেখা গিয়েছে বেশ কয়েকবার । কিন্তু লজ থেকে মাত্র পনেরো ফুট দূরত্বে দাঁড়িয়ে আস্ত গন্ডার দেখার সৌভাগ্য ইতিপুর্বে কারো হয়নি । ওই গন্ডারকে দেখতে পেয়ে প্রথমে অপ্রস্তুত হলেও, একটু পরেই ছবি ও ভিডিও ক্যামেরাবন্দী করতে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় পর্যটকদের মধ্যে । এই অপ্রত্যাশিত দৃশ্য তাড়িয়ে উপভোগ করতে ছাড়েননি লজের আধিকারিক থেকে কর্মীরাও। প্রায় কুড়ি মিনিট পর ধীর পায়ে জঙ্গলে অদৃশ্য হয়ে যায় হঠাৎ আগন্তুক গন্ডারটি।
সরকারি লজটির সঞ্চালক নিরঞ্জন সাহা জানিয়েছেন “ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়সহ বহু বিখ্যাত মানুষ এসেছেন মাদারিহাটের এই লজে।তবে লজে বসে গন্ডার দর্শন এই প্রথম বার। এখনও আমাদের ঘোর কাটছে না।”
কলকাতার কুঁদঘাটের বাসিন্দা পর্যটক কৌন্তিক মিত্র দু’দিন আগেই বান্ধবীকে নিয়ে জলদাপাড়া বেড়াতে এসেছেন । বৃহস্পতিবার সকালে জলদাপাড়ার হলং রাইডিং পয়েন্ট থেকে হাতি সাফারিতে গিয়ে কিছুটা হতাশ হয়েই ফিরেছিলেন।কিন্তু ভাগ্যে যে এতবড়ো সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে তা কি আর জানা ছিল । তিনি জানান “শুক্রবার সকালের ওই দৃশ্য মন ক্যামেরায় বন্দি করে রাখবো চিরকাল।ওই মুহূর্তের যে সাক্ষী হতে পারবো আমরা, তা স্বপ্নেও কল্পনায় আনতে পারিনি।চোখের সামনে গন্ডার দেখে প্রাথমিক ভাবে চমকে গেলেও পরে নিজেদের সামলে নিয়েছি।”
