নিউজ ডেস্ক , দ্য ফোর্থ কলাম, ৩১ জানুয়ারি’২০২০ :-

ছবি – অসম লড়াই শেষে চিকিৎসা শয্যায় চা রমণী অনিতা নাগাশিয়া
বাঁচা- মরার মাঝে তখন কয়েক মুহূর্তের ফারাক । চা বাগানের ঝোপ সরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার হাতের লাঠি মাটিতে পড়বার মুখে । ডান হাত কামড়ে ধরে ঘন ঝোপের আড়ালে টেনে নিয়ে যাচ্ছে তখন হিংস্র শ্বাপদ । কনুই বেয়ে গড়িয়ে মাটিতে পড়ছে টপ টপ লাল রক্ত । রক্তের স্বাদ পেয়ে তখন হিংস্রতর হয়ে উঠেছে ডুয়ার্সের চা বাগিচার আতংক প্রমান সাইজের লেপার্ড । লেপার্ড এর থাবা তখন একের পর এক আছড়ে পড়ছে শীর্ন কোমরে । ঠিক সেই মুহূর্তে , জ্ঞান হারাবার মুহূর্তে , জলে ডুবে যাওয়া অসহায় মানুষ যেমন শেষ সহায় হিসেবে প্রানপনে আঁকড়ে ধরে এক পলকা তৃণকে , ঠিক সে ভাবেই বাঁচার শেষ চেষ্টায় হাতের লাঠি তুলে ধরে মরিয়া ভাবেই আঘাত হানে অবশ্যম্ভাবী মৃত্যু সামনে দেখা চা রমণী । এবং আঘাত গিয়ে সপাটে পড়ে লেপার্ড এর দুই চোখের মাঝে । এবং থমকে যায় লেপার্ড । শুক্রবার ডুয়ার্সের এক চা বাগানে ঠিক এই দৃশ্যের অবতারণায় লেপার্ড এর সঙ্গে এক চা শ্রমিক মহিলার মরিয়া লড়াই এখন ফিরছে লোকের মুখে মুখে । এবং আক্ষরিক অর্থেই মৃত্যুর দরজা থেকে বেঁচে ফেরা রাজাভাত চা বাগানের চা রমণী অনিতা নাগশিয়া এখন এলাকার ‘ঝাঁসির রানী লক্ষীবাঈ’ । লেপার্ড এর সঙ্গে তার মরণপণ ধস্তাধস্তির লড়াই আপাতত লোকমুখে ভাইরাল হওয়ার পথে ।
কি হয়েছিল শুক্রবার সকাল দশটায় রাজাভাত চা বাগানের ১০ নম্বর সেকশনে ? অন্যান্য দিনের মতো এদিনও পাতা তুলতে যান অনিতা দেবী । বক্সা বাঘ বনের জঙ্গল ঘেঁষা এই চা বাগান যে শ্বাপদ সঙ্কুল ,সেটা সম্ভবত তিনি ভুলে গিয়েছিলেন । তিনি হয়তো একথাও ভুলে গিয়েছিলেন , যে কিছুদিন আগেই একের পর এক শিশু কিশোর কিশোরীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে জঙ্গলে টেনে নিয়ে তাদের যমালয়ে পাঠিয়ে ছিল লেপার্ড । আপন মনে তিনি পাতা তুলেছিলেন । আচমকাই সটান ঝাঁপিয়ে পড়ে লেপার্ড এবং তার পরের ঘটনা প্রত্যক্ষ করে শিউরে উঠেছে বাগান মহল্লা । সাহস না করে তিনি যদি হাল ছেড়ে দিতেন , তবে গল্পটা আর পাঁচটা ঘটনার মতোই ‘লেপার্ড হানায় মৃত্যুর’ দিকে যেতে পারত , একবাক্যে বলছেন সকলেই ।
আপাতত , ডান হাতে – কোমরে জখম নিয়ে বাগানের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হয়ে লতাবাড়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন বছর পঁয়ত্রিশের চা রমণী অনিতা নাগশিয়া । কিভাবে মূর্তিমান মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরলেন , সেটা ভেবেই তিনি ম্যূহমান । ধন্যবাদ দিচ্ছেন সঙ্গী সাথীদের , লেপার্ড এক মুহূর্তের জন্য থমকে যাওয়ার পর যারা হল্লা করে এই অসম লড়াইয়ের সঙ্গ দিয়েছিলেন এবং ধন্যবাদ জানাতে ভুলছেন না উপরওয়ালাকেও । আর এলাকা সসম্ভ্রমে দেখছে তাকে , যিনি ধস্তাধস্তি কিংবা লড়াই , শব্দের প্রাবল্য যাই হোক না কেন , লেপার্ড এর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফিরেছেন , এলাকার ভাষায় – জানে বেঁচে !