না-মানুষ বাড়ছে বনবিভাগে : ‘করিমে’র পর আসছে আরও ৪ বেলজিয়ান শেফার্ড |The4thcolumn

নিউজ ডেস্ক , দ্য ফোর্থ কলাম, ১৯ ডিসেম্বর’১৯ :-

ছবি -বক্সা বাঘ বনের ভরসা , করিম , এক বেলজিয়ান শেফার্ড

মানুষের অভাবে না-মানুষদের উপরেই ভরসা করতে বাধ্য হচ্ছে বনদপ্তর। তাই রাজ্যের বন ও বন্যপ্রাণীর সুরক্ষার জন্য রাজ্যে আসতে চলেছে আরও চারটি বেলজিয়ান শেফার্ড।প্রশিক্ষিত চার ‘ম্যালিনয়স’ গোয়েন্দা আর তিন মাসের মধ্যেই প্রশিক্ষণ পর্ব শেষে রাজ্যের বনকর্মী হিসেবে কাজে যোগ দেবে।তাদেরকে নিয়ে বনদপ্তরের হাতে বেলজিয়ান শেফার্ডের সংখ্যা দাঁড়াবে সাতে।ইতিমধ্যেই বনদপ্তরের তিন গোয়েন্দা ‘ম্যালিনয়স’ করিম,রাণী ও সিলভিয়া বড় বড় বন্যপ্রাণী হত্যা ও বেশ কিছু সামাজিক জটিল অপরাধের কিনারা করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।প্রচণ্ড ক্ষিপ্রতা আর দক্ষতার কারনে সারা দেশের মধ্যে সেরা গোয়েন্দা কুকুরের স্বীকৃতি পেয়েছে করিম।হালে রাজ্যের বিভিন্ন বনাঞ্চল গুলিতে চোরাশিকারীদের দৌড়াত্ম মারাত্মক ভাবে বেড়ে যাওয়ার দরুন বনদপ্তর ওই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের বন্যপ্রাণ শাখার প্রধান মুখ্য বনপাল রবিকান্ত সিনহা। আপাতত বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে রয়েছে করিম ও সিলভিয়া আর রাণী রয়েছে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে।নতুন যারা আসছে তাদের মধ্যে একজন যাবে বাঁকুড়া বন বিভাগের হাতে।বাকি তিন গোয়েন্দা কুকুরের মধ্যে মহানন্দা অভয়ারণ্য, গুরুমারা জাতীয় উদ্যান ও বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে আসছে একটি করে কুকুর।কিন্তু ল্যাবরেডর অথবা জার্মান শেফার্ডের পরিবর্তে কেন ‘ম্যালিনয়স’দের উপর এতটা ভরসা বনদপ্তরের? এই প্রশ্নের উত্তরে রবিকান্ত সিনহা জানিয়েছেন “পৃথিবীর অন্যান্য গোয়েন্দা কুকুরের তুলনায় বেলজিয়ান শেফার্ডরা বুদ্ধি,ক্ষিপ্রতা ও দক্ষতায় অনেক বেশি সাফল্যের নজির রেখেছে।তাই লোকবলের অভাব মেটাতে ওই বিশেষ প্রজাতির কুকুরের উপরেই ভরসা রেখেছি আমরা।কারন মাত্র এক বছরের মধ্যেই করিম, সিলভিয়া ও রাণী আমাদের অনেক জটিল সমস্যার সমাধান করে দিয়েছে এক লহমায়।” তবে শুধু মাত্র রাজ্য বনদপ্তরই নয়, ওই বেলজিয়ান শেফার্ড অথবা ‘ম্যালিনয়স’ দের উপর ভরসা করেই ইউএস শিল আর্মি পাকিস্তানের এ্যাবেটাবাদে আত্মগোপন করে থাকা ওসাম বিন লাদেনকে নিকেশ করতে সক্ষম হয়েছিল।আল বাগদাদিকে খতম করতে সহায়তা করেছিল ওই না-মানুষরাই। এছাড়াও আফগানিস্তান ও ইরাকের যুদ্ধের সময় ল্যান্ড মাইন ও লুকোনো বোমা খু্ঁজে বার করার জন্য আমেরিকান সেনা বাহিনীর প্রধান ভরসা ছিল ওই ‘ম্যালিনয়স’রাই।গোয়েন্দাগীরিতে ওই বেলজিয়ান শেফার্ডদের তাক লাগানো সাফল্যের দিকটিতেও নজর দিয়েছিল বনদপ্তর।রবিকান্ত সিনহা জানিয়েছেন “ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের বিএসএফ কুকুর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ছয় মাসের কঠোর অনুশীলন পর্ব শেষ করেছে নতুন চার গোয়েন্দা কুকুর।আগামী তিন মাসের মধ্যেই প্রশিক্ষণ শেষে তারা আমাদের দপ্তরের কর্মী হিসেবে দায়িত্বভার নেবে।” করিম, সিলভিয়া ও রাণীও ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে গোয়েন্দাগীরির পাঠ নিয়েছে।এবারেও সারা দেশের মধ্যে মাত্র চারটি বেলজিয়ান শেফার্ডই প্রশিক্ষণ পর্বের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল।তাদের চারজনই রাজ্যের নতুন অতিথি হয়ে আসতে চলায় খুশির হাওয়া  এখন বনদপ্তরে।বিএসএফের নিয়ম অনুসারে  প্রশিক্ষণ পর্ব শেষেই নতুন নামকরণের পর ওরা পা রাখবে রাজ্যের মাটিতে।

Leave a Reply

error: Content is protected !!