শীতকালীন জঙ্গলে খাদ্যাভাব : হাতির হানায় জেরবার ডুয়ার্স |The4thcolumn

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৬ডিসেম্বর’১৯ :-

একদিকে শীতকালীন ফসলি মরসুম চলছে জন এলাকায়, অন্যদিকে শীতের জঙ্গলে এখনো পাতা ঝরার সময় । রয়েছে খাদ্যাভাব । এবং স্বাভাবিক নিয়মেই জঙ্গলের হাতির আনাগোনা বেড়েছে লোকালয়ে । খাদ্যওর খোঁজে মানুষের বসতিতে ঢুকে পড়ছে বুনো হাতি । বাড়ছে হাতি-মানুষ সংঘর্ষ । এবং এইভাবেই হাতির তান্ডব অব্যাহত রয়েছে ডুয়ার্সে। ডুয়ার্সের জলদাপাড়া ও বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গল থেকে দলছুট হাতি বেড়িয়ে দুই এলাকায় তান্ডব চালায়। শুক্রবার ভোর রাতের এই দুই ঘটনায় জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এদিন ভোর রাতে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গল থেকে একটি হাতি কুমারগ্রামের কার্তিকা এলাকায় উর্শিলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তান্ডব চালায়। ভোর ৩ টে নাগাদ হাতিটি প্রাথমিক স্কুলে ঢুকে বিদ্যালয়ে থাকা কলাগাছে দুমরে মুচরে খেতে শুরু করে। হাতির আনাগোনা টের পেয়ে এলাকার মানুষেরা ঘুম থেকে উঠে পড়েন। কলাগাছ খেয়ে পরে স্কুলের গ্রীল ও বারান্দায় হামলা চালায় হাতিটি। স্কুলের শিক্ষিকা সিস্টার বিনিতা বলেন, “ আমরা হাতি আসার ঘটনা টের পেয়ে ঘুম থেকে উঠি। আলো জ্বালাতে যাই। কিন্তু গ্রীল ভাংচুর করতে শুরু করলে আমরা ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাই। প্রায় ১ ঘন্টা স্কুলে তান্ডব চালায় হাতিটি। বনদফতরের কাছে ক্ষতিপুরনের আবেদন জানিয়েছি। ” বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের উত্তর রায়ডাক রেঞ্জের রেঞ্জার অমিতেশ শতপথি বলেন, “ আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতি জঙ্গলে খেদিয়ে দিয়েছি। বন দফতরের আইন অনুসারে ক্ষতিপুরনের বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।” ওদিকে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান থেকে এক পাল বুনো হাতি জঙ্গল লাগোয়া পূর্ব খয়েরবাড়ির জঙ্গলে ঢুকে পড়ে। এলাকায় বেশ কিছু বাড়ির সুপারিবাগানে তছনছ চালিয়েছে হাতির পাল। বনদফতরকে ডেকেও পাওয়া যায় নি বলে অভিযোগ। প্রতিবাদে ঘটনাস্থলের কাছেই শুক্রবার সকাল ৯ টা থেকে পথ অবরোধ শুরু করেন স্থানিয়রা। পরে পুলিশ ও বনদফতর ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন স্থানিয়রা। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডি এফ ও কুমার বিমল বলেন, “ আমরা ঘটনা ক্ষতিয়ে দেখছি। জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই হাতি বের হয়। তবে বনকর্মীদের কোন খামতি রয়েছে কি না তা দেখা হচ্ছে।”

Leave a Reply

error: Content is protected !!