নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৫ জানুয়ারি’২০২০ :-

একজন দুজন নয় ,এক’শ দু’শও নয় ! গুণে গুণে ঠিক এক হাজার আট’শ ছত্রিশ জন শিশু-বালক-বালিকা । একত্রে বসে তারা আঁকছে । আঁকছে ডুয়ার্সের ফুল-পাতা-বন-জঙ্গল-হাতি-হরিণ -চা বাগিচা । তারা আঁকছে ডুয়ার্সের প্রান্তিক কোনো জনপদের মানুষ-মেলা কিংবা শহরের গায়ে নগরের আলতো গন্ধ মাখা কোনো মফস্বলের ছবি । কচি হাতের রং পেন্সিল তুলির টানে হাজার ডুয়ার্স ফুটে উঠছে সস্তা ক্যানভাসে, মোহময়ী ডুয়ার্সের রূপ-রস-গন্ধ ধরা দিচ্ছে ডুয়ার্সের ‘নেক্সট জেনারেশনের’ কল্পনাছবিতে । রবিবার , আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডে ১৬ তম ডুয়ার্স উৎসবের শেষ লগ্নের প্রাক্কালে প্রায় হাজার দুয়েক ক্ষুদে আঁকিয়েদের নিষ্পাপ ছবি কল্পনার আখরের এমনতর প্রতিফলনই দেখল জেলাবাসী । এবং এতো বড় মাপের একটি ‘বসে আঁকো প্রতিযোগিতার ‘ আয়োজন সুসম্পন্ন করতে পেরে আক্ষরিক অর্থেই আহ্লাদিত উৎসবের শিশুমঞ্চ উপসমিতির জনা চল্লিশেক সদস্য ।
সংশ্লিষ্ট উপসমিতির শীর্ষ দায়িত্বে (আহবাহক) এবার ছিলেন উৎসেন্দু তালুকদার ও অজিত নাথ । তাদের যোগ্য সঙ্গত করেছেন বাকী চল্লিশ জন সংস্কৃতি মনস্ক সদস্য । এবং এই যৌথ খামার যে আবশ্যক ফসল ফলিয়েছে ,তাতে দ্বিমত নেই কারুর । এদিনের এই ‘অংকন প্রতিযোগিতায় ‘ হাজার কচিকাঁচাদের রংবেরঙের কলরব তার প্রমাণ , এমন দাবীই করেছেন অজিতবাবু । বিগত উৎসব দিনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তার স্পষ্ট ভাষণ, ‘ এই ১৮৩৬ সংখ্যা আমাদের সাফল্য ‘।
উৎসেন্দুবাবুও ততোধিক উচ্ছসিত প্রায় দু হাজার শিশু বালক বালিকাদের উৎসাহী অংশগ্রহণ দেখে । তার বয়ানে, ‘আমরা এবার নতুন কিছু ভাবছিলাম । সে কারণে তিন বিভাগে তিন বিষয় বেঁধে দিয়ে এক্কেবারে কচিদের জন্য ছিল বর্ণ মালা লিখন । সাড়া পেয়েছি ।
শিশুমঞ্চ সূত্রে খবর , এই অংকন প্রতিযোগিতায় নয়া মাত্রা এনে দিয়েছে বর্ণ মালা লিখন প্রতিযোগিতা । ডুয়ার্সের নানা ভাষাভাষীর শিশুরা নিজের মাতৃভাষার অক্ষর ফুটিয়ে তুলেছে দুধসাদা পৃষ্ঠায় । যদিও অধিকাংশ বাংলা অক্ষর দেখা গেলেও বাদ পড়েনি হিন্দি-ইংরেজিরা ।
ডুয়ার্স উৎসব ,গ্রাম্যমেলা অথবা শহরের পরিবেশ কিংবা পরিবেশ দূষণ ,ক্রেতা সুরক্ষা ,জল সংরক্ষণ ,বিদ্যুৎ সাশ্রয় ইত্যাদি বিষয় বেঁধে দিয়েছিলেন উদ্যোক্তারা । এছাড়াও ছিল ‘যেমন খুশী তেমন আঁকো’। বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন কোচবিহারের দুই স্বনামধন্য আঁকিয়ে শুভঙ্কর সরকার ও রণদীপ দে সরকার । এবং এই ১৮৩৬ জন ক্ষুদে আঁকিয়েদের প্রত্যেকের জন্য মেডেল ও টিফিনের ব্যবস্থা করতে কার্পণ্য করে নি শিশুমঞ্চ উপসমিতি । এক কথায় , সাধ ও সাধ্যের মধ্যে বাস্তব সাযুজ্যের যথার্থ প্রতিবিম্ব কিছুটা হলেও ডুয়ার্স উৎসবের শিশুমঞ্চ যে এবছর প্রকাশ করতে সমর্থ হয়েছে ,তা বলাই বাহুল্য ।
