নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৭ জানুয়ারি’২০২০ :-

আলিপুরদুয়ারের চিলাপাতায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখতে পাওয়া নিয়ে গুজব রটলেও এবার বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে সত্যি সত্যি দেখা মিলল লেপার্ড এর এক প্রজাতি ব্ল্যাকপ্যান্থার অথবা “মেলানেস্টক লেপার্ড” এর। লেপার্ড এর সঙ্গে এদের তফাৎ শুধু গায়ের ডোরাকাটা দাগে। জিনঘটিত কারনে লেপার্ড এর গায়ে হলুদ ছোপ থাকলেও ব্ল্যাকপ্যান্থারের গায়ে থাকে না। কিন্তু এদের দেহের ঘন কালো কুচকুচে রং এবং জ্বলজ্বল করা হলুদ চোখ এদের অনেক বেশী হিংস্র করে তোলে। ১৪ই জানুয়ারি মঙ্গলবার এক ফরেস্ট গাইড লেখু মাহাত একদল পর্যটককে নিয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জয়ন্তী থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের মহাকাল পাহাড় থেকে ফেরার সময় আচমকাই পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নামা একজোড়া ব্ল্যাকপ্যান্থারকে দেখতে পান। এরকম ভয়ানক এক জন্তু দেখে কিন্তু সেটি ক্যামেরাবন্দী করার থেকে পিছপা হননি। বনদপ্তরের দাবি, ওই ছবি তথ্য থেকেই পরিষ্কার হয় যে, বক্সা পাহাড়ের জনমানবহীন দুর্গম এলাকায় ওই কালো লেপার্ড এর ঘন বসতি রয়েছে।
এর আগে বনদপ্তরের ক্যামেরাস্ট্রিপে ব্ল্যাকপ্যান্থারের অস্পষ্ট ছবি ধরা পড়লেও দিনের আলোয় এই প্রথম এদের অস্তিত্বের নিখুঁত প্রমান পাওয়া গেল। বনদপ্তরের নথি অনুসারে উত্তরবঙ্গের পাঁচটি সংরক্ষিত জঙ্গল মহানন্দা অভয়ারণ্য, নেওড়াভ্যালি,গরুমারা ও জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান এবং বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে ব্ল্যাকপ্যান্থারদের অস্তিত্ব রয়েছে। ব্ল্যাক প্যান্থারের দেখা পাওয়ার ফলে ওই এলাকাটিতে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করেছে বনদপ্তর।
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা শুভঙ্কর সেনগুপ্ত জানিয়েছেন “বক্সার পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দা ওই কালো লেপার্ডরা তীব্র শীতের কারনে বছরের ঠিক এই সময়টায় শিকারের সন্ধানে নিচে নেমে আসে।তবে দিনের বেলায় এদের দেখা পাওয়াটা সত্যিই দুষ্কর।এর থেকেই প্রমাণিত হয় যে বক্সার জীব বৈচিত্র্য এখনও অটুট”।
পরিবেশপ্রেমীদের বক্তব্য, শারীরিক রং আর আকৃতির কারনেই ব্ল্যাকপ্যান্থারদের দিনের আলোয় দেখা পাওয়াটা বিরল ঘটনা। সাধারণত নিশুতি রাতেই ওই প্রজাতির লেপার্ডরা শিকারে বের হয়।বেলা ডোবার আগেই জোড়া কালো লেপার্ড এর দর্শন মেলাতে বোঝাই যাচ্ছে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ওই শ্রেণির লেপার্ডদের সংসার বেড়েছে।বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ ও বাস্তুতন্ত্রের জন্য এটি একটি সদর্থক লক্ষণ বলেই মনে করছে তামাম পরিবেশপ্রেমী মহল ।
