নিউজ ডেস্ক , দ্য ফোর্থ কলাম, ২৪ জানুয়ারি’২০২০ :-

রাজনৈতিক রং লাগল অরবিন্দ নগরের মার্ডার কেসে । গতকাল রাতে আলিপুরদুয়ার অরবিন্দনগরের ঘটনা নিয়ে একে অপরের দিকে আঙ্গুল তুলল তৃণমূল -বিজেপি । একদিকে যেমন নিহত যুবককে তৃণমূল কর্মী রূপে দাবী করে অভিযুক্ত হত্যাকারীকে বিজেপি নেতা উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা করেছেন আলিপুরদুয়ার বিধায়ক ড:সৌরভ চক্রবর্তী । অন্যদিকে , ঘটনার আইনি তদন্ত দাবী করে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতিকে ‘মার্ডার কেসের’ আসামী উল্লেখ করে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির আলিপুরদুয়ার জেলার সভাপতি গঙ্গা প্রসাদ শর্মা । সব মিলিয়ে আসন্ন ফালাকাটা উপনির্বাচন ও অদূর আগামীর আলিপুরদুয়ার পুরভোটের প্রাক্কালে গতরাতের এই মার্ডার কেস নিয়ে যুযুধান আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূল-বিজেপি ।
বৃহস্পতিবার রাতে আলিপুরদুয়ারের অরবিন্দনগরে খুন হওয়া যুবককে তৃণমূল কর্মী হিসাবে দাবী করে বিজেপির বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “বিপ্লব বসাক নামে আলিপুরদুয়ারের বিজেপির এক সমাজবিরোধী নেতা প্রকাশ্যে বাপী পন্ডিত নামে তৃণমূলের এক যুব নেতাকে গুলি করে হত্যা করে। গতকাল রাতে বাপী পন্ডিতকে অরবিন্দনগরে ডাকা হয় এবং তারপর তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়”।
তিনি বলেন, “উত্তরবঙ্গে দিলীপ ঘোষের উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের এতটাই উত্তপ্ত করে যে বিজেপির লোকেরা তৃণমূল কর্মীদের প্রকাশ্যে গুলি করে মারছে। বিজেপির নেতা তার নিজের বন্দুক দিয়ে প্রকাশ্যে কাউকে গুলি করে মারছে এরকম ঘটনা আলিপুরদুয়ারের ইতিহাসে কোনোদিন ঘটেনি। আমি প্রশাসনকে বলবো দোষীকে শীঘ্রই গ্ৰেফতার করতে। ভবিষ্যতে যাতে এরকম ঘটনা আর না ঘটে আমরা তার ব্যবস্থা নেব”।
অন্যদিকে, আইনই শেষ কথা এবং বিজেপি এরকম হিংসার রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেয়না জানিয়ে, বিজেপির জেলা সভাপতি গঙ্গা প্রসাদ শর্মা বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীর দিকে পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন “সৌরভ চক্রবর্তীর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। দিলীপ ঘোষ ফালাকাটা কার্যক্রম শেষ করার পরে সোজা পাহাড়ে চলে যান। যে হত্যা করেছে তার কঠোরতম শাস্তি হওয়া দরকার। বিজেপি এরকম নোংরা কাজকে প্রশ্রয় দেয়না”।
এরপরেই আরও আক্রমণ শানিয়ে সরাসরি আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি দিকে ‘মার্ডার কেসের ‘ আঙ্গুল তোলেন গঙ্গাবাবু । বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীর দিকে সরাসরি অভিযোগ করে তিনি বলেন, “খুনের মামলায় অভিযুক্ত মনোরঞ্জনবাবুকে পাশে রেখে রাজনীতি করছে সৌরভ চক্রবর্তী। তিনি কোন মুখে এইকথা বলেন। মনোরঞ্জনবাবুর এর বিরুদ্ধে কমপক্ষ ৭-৮ টি খুনের মামলা চলছে। ডাকাতির মামলা রয়েছে। অপরাধীদের সাথে নিয়ে রাজনীতি করার রীতি তৃণমূলের আছে, বিজেপির না”।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাতে আলিপুরদুয়ারের পুর এলাকার ১নং ওয়ার্ড এর জ্ঞানেশ চন্দ্র সরনীতে রাত ১০:৩০ টা নাগাদ আলিপুরদুয়ার ভোলারডাবরীর বাসিন্দা বাপী পন্ডিতের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার আইনি তদন্ত চলছে। জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্র নাথ ত্রিপাঠী জানিয়েছেন , একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । মূল অভিযুক্ত বিপ্লব বসাক ফেরার । তার খোঁজ চলছে ।
এই নির্মম হত্যার পিছনে কার্যকারণ হিসাবে উঠে আসছে জমি বিবাদের তত্ব । যে যুবক খুন হয়েছেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি পরস্পর আত্মীয়তায় আবদ্ধ । পুলিশের বক্তব্য , উত্তেজনার মাথায় এই খুন নাকি ঠান্ডা মাথায় বাড়িতে ডেকে পরিকল্পনা মাফিক খুন করা হয়েছে, অর্থাৎ খুনের মোটিভ , সেটাও তদন্তে থাকছে ।
তবে কারন যাই হোক না কেন , আসন্ন ফালাকাটা উপনির্বাচন ও আলিপুরদুয়ার পুরসভা ভোটের প্রাক্কালে এই হত্যা কান্ড এবং তাতে রাজনীতির রং এর প্রলেপ ,বর্তমানে শহর তথা জেলা আলিপুরদুয়ারের যে আলোচনা ও আশঙ্কার অন্যতম বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে , তা বলাই বাহুল্য ।
ভিডিও বার্তা দেখতে নীচের রেড লাইনে ক্লিক করুন …
অরবিন্দ নগর হত্যাকান্ড নিয়ে যুযুধান তৃণমূল বিজেপি , জেলা সহসভাধিপতির দিকে আঙ্গুল বিজেপির