নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৬ সেপ্টেম্বর’১৯:-

ছেলে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন । ছেলের উপযুক্ত শিক্ষা পরিবেশের খাতিরে দীর্ঘদিন ধরেই লড়ে যাচ্ছেন তিনি । এবং শুধু নিজের ছেলে নয় , শহর আলিপুরদুয়ার ও তার সংলগ্ন এলাকার শতাধিক বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু বালক বালিকাদের বিশেষ শিক্ষা প্রদানে চালু করেছেন সংশ্লিষ্ট একটি স্কুলেরও । কিন্তু নিজের ছেলের অধিকারের আদায়ে হন্যে হয়েই প্রশাসনের দোরে দোরে ঘুরতে হচ্ছে অসহায় বাবাকে । নয়া সরকারী ফরমান অনুযায়ী পাচ্ছেন না সরকারী শংসাপত্র । এবং সুবিচার পেতে লিখিত অভিযোগ দেগেছেন উপায়হীন পিতা । ঘটনায় গুঞ্জন শুরু হয়েছে আলিপুরদুয়ার প্রশাসনিক মহলে ।
প্রসঙ্গত, বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য সারা দেশে চালু করা হয়েছে “রাইটস অফ দা পার্সনস উইথ ডিসেবিলিটিস অ্যাক্ট, ২০১৬”। এই বিলটি ২১বছরের পুরোনো পি.ডাব্লিউ.ডি অ্যাক্ট, ১৯৯৫ এর পরিবর্তে আনা হয়েছিল। এই নয়া বিলে বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের জন্য কিছু অধিকার প্রদান করা হয়েছে, যেগুলো আইনের কাছে সমতা, গোপনীয়তার অধিকার, কথা বলার স্বাধীনতা, বিবাহ ও পরিবারের প্রতি অধিকার, শিক্ষার অধিকার ও স্বাস্থ্যের অধিকার। অথচ আর.ডাব্লিউ.পি.ডি. অ্যাক্ট অনুযায়ী বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের নির্দিষ্ট শংসাপত্র দেওয়া হচ্ছে না আলিপুরদুয়ার জেলায়। এমন অভিযোগ করেছেন অর্ঘ্য মিত্র নামে এক ব্যক্তি। তার অভিযোগ, তিনি তার ছেলের জন্য প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেটের আবেদন করেছেন আলিপুরদুয়ার স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ দপ্তরে। অনেকবার ঘুরেও কোনো লাভ হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ১৯৯৫ সালের আইন অনুযায়ী শংসাপত্র দিতে চাইলে তা নিতে অস্বীকার করেছেন তিনি। অনেক জায়গায় নতুন আইন অনুযায়ী শংসা পত্র দেওয়া হলে আলিপুরদুয়ারে তা এখনো শুরু হয়নি। ফলে বহু প্রতিবন্ধী নতুন আইন অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। অর্ঘ্য মিত্র আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের সুপারের কাছে লিখিতভাবে এই বিষয়ে আবেদন করেছেন। এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মানবিক মুখ নিয়ে তাকে এই সুবিধা দেয় কিনা সেটাই দেখার।