পিঁড়ি’র আঘাতে খুন : একসঙ্গে ৮ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ | The4thcolumn

নিজস্ব প্রতিবেদক, আলিপুরদুয়ার, ১০ ডিসেম্বর’১৯:-

সামান্য কয়েকটি টাকা । তা নিয়ে বচসা । তার জন্যই ধারালো অস্ত্র , ইট দিয়ে এলোপাথাড়ি মার এবং পিঁড়ি দিয়ে মাথায় সপাট বাড়ি । ছয় বছর আগের এই খুনের ঘটনায় শেষ অবধি রায় দান করলেন আলিপুরদুয়ার আদালতের মাননীয় বিচারপতি । যাবজ্জীবন কারা দণ্ডাদেশ হলো একত্রে আট জনের । নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী রইল আলিপুরদুয়ার আদালত। একসঙ্গে ৮ জন আসামি কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডর নির্দেশ দিলেন বিচারক। বিচারের বিরল রায়দানের ঘটনায় ৬ পুরুষ এর সঙ্গে দুজন মহিলাও একই দণ্ডে দন্ডিত হয়েছেন।মঙ্গলবার , আলিপুরদুয়ার জেলা আদালতের সেকেন্ড ফার্স্ট ট্রাক কোর্টের বিচারক রিনা সাউ, মাঝেরাডাবড়ী চা বাগানের গির্জা লাইনের বাসিন্দা এমিল বাকলাকে ইঁট পাথর দিয়ে নৃশংসভাবে খুনের দায়ে ৮ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের নির্দেশ দেন।যাঁদের মধ্যে দু’জন মহিলাও রয়েছেন। আইনজীবী শ্রীময়ী ঘোষ মজুমদার জানান “গত ৩০ মার্চ ২০১৩ সালে এমিল বাকলার সাথে তার প্রতিবেশি প্রকাশ কুজুরের বচসা হয় এবং মারপিট হয় পরবর্তীতে গত ৩১ মার্চ ২০১৩ সালে তাঁর প্রতিবেশী আটজন, শান্তিযুস কুজুর, ক্রিস্টোফার কুজুর,নিকোলাস কুজুর,আনন্দ কুজুর,কিশোর কুজুর,নীলিমা কুজুর,প্রকাশ কুজুর । বিশমণি কুজুর এই আট জন এসে এমিল বাকলার উপর চড়াও হয়।ধারালো অস্ত্র ও ইট দিয়ে এমিল বাকলাকে গুরুতর ভাবে জখম করে।ওই নৃসংশ আক্রমণের জেরে এমিল বাকলা মারা যান।দীর্ঘ ৬ বছর বিচার চলার পর মঙ্গলবার  বিচারক অভিযুক্ত আট জনকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। ওই মামলায় ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়েছিল।” উল্লেখ্য, আলিপুরদুয়ার আদালতে আজকের রায়টিকে বিশেষজ্ঞ মহলের একটি অংশ ঐতিহাসিক রায় বলে অভিহিত করেছেন।আদালতের পিপি জহর মজুমদার বলেন, যথেষ্ট তাতপর্যপুর্ন রায়।ঘটনাটি চা বাগানের।চা বলয়ে নৃশংস ঘটনার অনেক নজির রয়েছে।এই ধরনের দণ্ডের বিষয় মানুষ জানতে পারলে নিশ্চিত অপরাধের প্রবণতা কমবে।শ্রীময়ী ঘোষ মজুমদার বলেন, সামান্য অর্থের জন্য এমন নৃশংস খুনের ঘটনার নজির খুব কম রয়েছে।যে ৮ জন মিলে খুন করেছিলেন তাদের মধ্যে ২ জন মহিলাও রয়েছেন।এদিকে শেষ কবে আলিপুরদুয়ার আদালতে একসঙ্গে ৮ জনের যাবজ্জীবন হয়েছিল তা অনেকেই মনে করতে পারেননি।রায় দানের খবর শুনে খুশি মৃতের পরিবার।উল্লেখ্য, আলিপুরদুয়ার জেলা সদরের এক্কেবারে গা ঘেঁষে থাকা মাঝের ডাবরি চা বাগানের ঘটনায় ২০১৩ সালে গোটা জেলা জুরেই জল্পনা ছরায়।জানা গেছিল, ৪-৫ ধরনের অস্ত্র ব্যাবহার হয়।যার মধ্যে বাড়িতে ব্যবহারের পিঁড়ি অবদি ছিল।

Leave a Reply

error: Content is protected !!