নিজস্ব প্রতিবেদক, কোচবিহার, ১১সেপ্টেম্বর’১৯:-

সরকারি এবং সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে প্রজেক্ট এবং প্র্যাকটিকাল এর নামে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা যেভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর মানসিক নির্যাতন করছেন তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামলে পশ্চিমবঙ্গ গৃহশিক্ষক কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের পক্ষ থেকে বুধবার দিনহাটা মহকুমা শাসকের দপ্তরে বিক্ষোভ ডেপুটেশন দেওয়া হয়। এদিন সংগঠনের জেলা সভাপতি অমিতাভ কর, দিনহাটা মহকুমা সভাপতি নারায়ন চন্দ্র বর্মন, সম্পাদক তপন বর্মন প্রমুখের নেতৃত্বে বিক্ষোভ চলে। বিক্ষোভ চলাকালীন জেলা সভাপতি অমিতাভ করের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল মহকুমা শাসক শেখ আনসার আহমেদ এর সাথে দেখা করে তার হাতে ছয় দফা দাবি পত্র তুলে দেওয়া হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে গোটা রাজ্যে সরকারি স্কুল গুলির পঠন-পাঠনের সার্বিক উন্নতির দাবি জানানো ছাড়াও সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের গৃহশিক্ষকতা বন্ধের দাবি জানানো হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিকের কাছে ডেপুটেশন দিয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানান হয়। দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গৃহ শিক্ষকতা করার বিষয়ে টানাপোড়েন চলছিল গৃহশিক্ষক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে। এর আগেও বহুবার এ বিষয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েও যথাযথ ফল পায়নি গৃহশিক্ষকরা বলে অভিযোগ। রাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী কোনো লাভ জনক প্রতিষ্ঠানের সাথে শিক্ষক অথবা অশিক্ষক কর্মীরা সরাসরি যুক্ত থাকতে পারবেন না। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নত করা , বিদ্যালয়ের ভিতরে শিক্ষক শিক্ষিকা ছাত্র ছাত্রীদের মোবাইল ফোন ব্যাবহার নিষিদ্ধ করা , বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে সেই জায়গায় অন্য শিক্ষককে ক্লাস নেওয়ার দাবি ও তারা জানান। এদিন ডেপুটেশন দেওয়ার আগে উল্লিখিত বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে এদিন সকাল ১১ টা নাগাদ সংগঠনের সদস্যরা সংহতি ময়দান থেকে মিছিল করে দিনহাটা মহকুমা শাসক করনে হাজির হয়ে দাবি পত্র তুলে দেন। সংগঠনের জেলা সভাপতি অমিতাভ কর বলেন,” স্কুল শিক্ষার পরিকাঠামোর দোহাই দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে কালিমালিপ্ত করছে কিছু স্কুলের শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন এর আগেও আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম আজকেও মহকুমা শাসকের হাতে আমাদের দাবি পত্র তুলে দিলাম ।আশা রাখছি আমাদের দাবি খতিয়ে দেখে উনি যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। তিনি আরো বলেন প্রশাসন যদি এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তবে আমাদের কোনো শারীরিক ক্ষতি হলে দায়গ্রস্থ থাকবেন প্রশাসন”।এপ্রসঙ্গে মহকুমা শাসক শেখ আনসার আহমেদ বলেন,”বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গৃহ শিক্ষকতা করা আইন বিরোধী কাজ । প্রমাণ পেলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব। বাকি যেসব দাবি উনারা করলেন আমরা তদন্ত করে দেখবো”।মহকুমা শাসকের কাছে আশ্বাস পেয়ে স্বভাবতই খুশি হলেন পশ্চিমবঙ্গ গৃহ শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সদস্যরা।