নিজস্ব প্রতিবেদক, কোচবিহার, ১১ অক্টোবর’১৯:-

বিজেপি ছেড়ে ভেটাগুড়ি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের দুই সদস্য ছাড়াও বেশ কয়েকজন তৃণমূলে যোগদান করল । শুক্রবার দিনহাটায় এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের দুই সদস্য ছাড়াও নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিজেপি নেতা নয়ন মিয়া অনুগামীদের নিয়ে তৃণমূলে যোগদান করলে সকলের হাতেই দলীয় পতাকা তুলে দেন বিধায়ক উদয়ন গুহ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রের কোর কমিটির সদস্য বিশ্বনাথ দে আমিন, শুকারুরকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বিষ্ণু সরকার, আলতাফ মিয়া, আজিজার রহমান, ভেটাগুড়ি অঞ্চল নেতৃত্ব মন্তেশ্বর রায়, সুনীল রায় সরকার প্রমুখ। এদিন যে দুই গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূলে যোগদান করলেন তারা হলেন দিলীপ বর্মন ও কাকলি মোদক।
এদিন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসা ভেটাগুড়ি এক গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য দিলীপ বর্মন বলেন এদিন তারা স্ব ইচ্ছায় তৃণমূলে যোগদান করেন। গত পঞ্চায়েত ভোটে যুব তৃনমূলের হয়ে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। পরে তারা বিজেপিতে যোগদান করলেও এলাকার উন্নয়ন কে এগিয়ে নিয়ে যেতে এদিন তারা তৃণমূলে ফিরে আসেন।
বিজেপি দলের এই দুই সদস্য তৃণমূলে যোগদান করলে বিজেপি দলের পক্ষ থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ছাড়াও দুই সদস্যকে জোরপূর্বক তুলে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিজেপির কোচবিহার জেলা সহ সভাপতি ব্রজগোবিন্দ বর্মণ, জেলা সম্পাদক সুদেব কর্মকার প্রমুখ বলেন গত লোকসভা ভোটে তৃণমূল পরাজিত হতেই বিভিন্ন স্থানে নানাভাবে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাস শুরু করেছে। তাদের দলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যদের নানাভাবে ভয়-ভীতি দেখিয়ে তৃণমূলে যোগদান করানো হয়। পঞ্চায়েত সদস্যদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে তৃণমূলে যোগদান করা না হলেও মানুষ বিজেপির সাথেই রয়েছেন বলে বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেন। বিজেপি নেতৃত্ব বলেন রাজ্যে ক্ষমতায় থাকায় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দিনহাটার বিভিন্নস্থানে বিজেপি কর্মীদের বাড়ি এমনকি দলীয় পদাধিকারীদের ও জনপ্রতিনিধিদের নানাভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা কখনো মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। আগামী বিধানসভার ভোট এই মানুষ তৃণমূলকে উপযুক্ত জবাব দিয়ে বাংলা ছাড়া করবে বলেও বিজেপি নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দেন।
বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান কারী পঞ্চায়েত সদস্যদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেওয়ার পর বিধায়ক উদয়ন গুহ বলেন গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এরা সকলেই তৃণমূলের হয়ে ভোটে জয়ী হন। কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহারে দলীয় প্রার্থীর পরাজয়ের পর বিজেপি এদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে ওই দলে সামিল করেন। এরা সকলেই মনেপ্রাণে তৃণমূল বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান রতন বর্মন সহজে তিনজন এখনও বিজেপি তে রয়েছেন তারা খুব শীঘ্রই তৃণমূলে যোগ দেবেন। ঘরের ছেলেরা সকলেই ঘরে ফিরে এল বলেও বিধায়ক উল্লেখ করেন।