নিজস্ব প্রতিবেদক, কোচবিহার, ১৫ ফেব্রুয়ারি’২০২০ :-

দায়িত্ব নিয়েছিল কুচবিহার পৌরসভা কিন্তু তারপরেও কোচবিহারের একাধিক পুরাতন দিঘী সংস্কারের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল তাই শেষমেষ নিজের কাঁধে দায়িত্ব গ্রহণ করল জেলা প্রশাসন। কুড়ি বছর পরে সংস্কার শুরু হলো কোচবিহারের অন্যতম রাজ আমলের চন্দন দীঘির। শনিবার সকালে কোচবিহার সদর মহকুমা শাসক সঞ্জয় পাল এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল চন্দন দীঘি সংস্কারের অভিযানে নামে।কোচবিহার শহরকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে হেরিটেজ ঘোষণা হওয়ার পর এই শহরকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল কোচবিহার জেলা প্রশাসন।জেলাশাসক পবন কাদিয়ানীর নেতৃত্বে শহরকে সুন্দর করে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে দীর্ঘদিন।সৌন্দর্য বিচারে অনেক ক্ষেত্রেই কোচবিহারের দীঘি গুলি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই সংস্কারের ক্ষেত্রে দুই বছর আগে প্রায় সাড়ে 8 কোটি টাকা খরচা করে জেলা শহরের পাঁচটি দীঘি সংস্কারের কাজ শুরু করেছিল কোচবিহার পৌরসভা।সেই কাজ এতটাই ধীরগতিতে চলছে যে সংস্কার তো দুরের কথা আরও নোংরা আবর্জনায় ভরে উঠছিল কোচবিহারের একাধিক দীঘি। তার মধ্যে চন্দন দীঘি অন্যতম। মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ন এর রাজত্বকালে কোচবিহারের একাধিক এলাকায় দীঘি খনন করা হয়। তেমনই এবিএন শীল কলেজ এর পার্শ্ববর্তী ফাঁকা জায়গায় এই চন্দন দীঘিটি তৈরি করা হয়েছিল। কোচবিহার জিতেন্দ্র নারায়ন চিকিৎসালয়, এবিএন শীল কলেজ ও কোচবিহার জেলা পোস্ট অফিস কে কেন্দ্র করেই দীঘিটি খনন করার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা, জলের যোগান দেওয়া। পরবর্তীতে কোচবিহারের ধোপাদিঘী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এই চন্দন দীঘি। কারণ, এই দীঘিতে পরবর্তীতে জামাকাপড় পরিষ্কার করার কাজ করতো ধোপারা। কাল ক্রমে এই দীঘিটি কচুরিপানায় ভরে ওঠে। দীর্ঘদিন থেকে এই দীঘি সংস্কারের জন্য পৌরসভার দ্বারস্থ হয়েছে কোচবিহার বাসীরা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অবশেষে কুড়ি বছর পরে সংস্কার শুরু হলো শনিবার থেকে। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন আপামর কোচবিহার বাসী।