নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার, ৩০ আগস্ট’১৯ :-

শেষ পর্যন্ত বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামানিকের কোচবিহারে নিয়ে আসা বিমানটির ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশী সময় পরে গতকাল অ্যান্টি হাইজ্যাকিং টিম কোচবিহারে বিমান বন্দরে পৌছায়। এরপরেই ওই বিমানটির উড়ানের সম্ভাবনা তৈরি হয় বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশ পাওয়ার পরেই কোচবিহার বিমান বন্দরে ‘অ্যান্টি হাইজ্যাকিং টিমে’র ব্যবস্থা করে জেলা পুলিশ। ওই টিম পাওয়ার পরেই কোচবিহার বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ এক মাসেরও বেশী সময় ধরে রানওয়ে পড়ে থাকা বিমানটিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় বলে জানা গিয়েছে।এবছর ২৭ জুলাই কোচবিহার বিমান বন্দরে একটি অনথিভুক্ত ৯ আসনের বিমান নিয়ে নামেন কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামানিক। ওই দিন তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ১ অগাস্ট থেকে নিয়মিত কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে গোয়াহাটি ও বাগডোগড়া পর্যন্ত বিমান চলাচল করবে। ওই দিন রাতেই বিমানবন্দরের সমস্ত রকম নিরাপত্তা এবং দমকল পরিষেবা তুলে নেয় রাজ্য সরকার। শুধু তাই নয়, রাজ্যকে অন্ধকারে রেখে বিমান পরিষেবা ঘোষণা করার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।এরফলে পরিষেবা চালু দূরের কথা বিমানটি রানওয়ের মধ্যেই দীর্ঘদিন থেকে পড়ে রয়েছে। ওই বিমান নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকারের সাথে বিজেপির টানাপড়েন চলতে থাকে।১৫ আগস্টের নিরাপত্তার কথা ভেবে কোচবিহার বিমান বন্দরে পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা করা হয় ঠিকই,কিন্তু অ্যান্টি হাইজ্যাকিং টিম না দেওয়ার জন্য বিমান চলাচল শুরু করতে পারেনি বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ। ফলে রানওয়ের উপড়ে দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকা ওই বিমান নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে উব্দেগ তৈরি হয়।কোচবিহারে দীর্ঘদিন থেকে বিমান পরিষেবা চালুর দাবি রয়েছে। বাম আমল থেকেই পরিষেবা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে একাধিকবার। কিন্তু সেই পরিষেবা দীর্ঘ সময় ধরে চলে নি। গত লোকসভা নির্বাচনের আগে সাংসদ হলে কোচবিহার থেকে বিমান পরিষেবা চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন নিশীথ প্রামানিক। আর জয় পেয়ে সাংসদ হিসেবে শপথ নেওয়ার কিছু দিনের মধ্যে কলকাতার কয়েকজন ব্যবসায়ী হায়দ্রাবাদ থেকে একটি বিমান ভাড়া নিয়ে পরিষেবা চালু করার উদ্যোগ নেয়। সেই ৯ আসন বিশিষ্ট ছোট বিমানে চেপে এসে নিশীথ প্রামানিক কোচবিহারে এসে পরিষেবা চালু করার কথা ঘোষণা করেন। আর এরপরেই টানাপড়েন শুরু হয়। মোটা অঙ্কের ভাড়া মেটাতে গিয়ে কার্যত চাপে পড়তে হয় ওই ব্যবসায়ী সংস্থাকে। এখন ফের উড়ানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সব মহলেই কিছুটা হলেও স্বস্তি তৈরি হয়েছে।