নিরন্তর লঙ্ঘিত হচ্ছে মানবাধিকার : ছিটমহলে রুপোলি পর্দার মিস ক্যালকাটা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কোচবিহার, ১৯ অক্টোবর’১৯ :-

দিনহাটার সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারের করলার বাসিন্দাদের জীবন যন্ত্রণার কথা শুনলেন বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চের নেত্রী তথা প্রখ্যাত অভিনেত্রী অপর্ণা সেন। শনিবার সংগঠনের পক্ষ থেকে সাবেক ওই ছিট মহল ছারাও বেশ কয়েক টি সাবেক ছিট মহলে গিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের সমস্যার কথা শোনেন তারা।এদিন অপর্ণা সেনের সঙ্গে ছিলেন সংগঠনের সম্পাদক কিরীটি রায়, বোলান গঙ্গোপাধ্যায়, মুদার পাথেরিয়া প্রমূখ। এদিন মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চের সদস্যরা কাঁটাতারের ওপারে অবস্থিত ভারতীয় ভূখণ্ডের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলতে চান। কিন্তু বিএসএফের তরফ থেকেই কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অবশেষে বিএসএফের তরফ থেকে ওপারের বাসিন্দাদের কাঁটাতারের এপারে আনানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরে অপর্ণা সেন সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ কাঁটাতারের ওপারের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সমস্যার কথা শোনেন।করলা গ্রামের মুনমুন বিবি, মোফাজ্জল হোসেন খন্দকার, হাসিম আব্দুল হালিম প্রমুখরা মঞ্চে নেত্রী অপর্ণা সেন সহ অন্যান্যদের কে কাছে পেয়ে বলেন তারা ভারতীয় হয়েও যেন বন্দি কারাগারের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের কথায় সারাদিনে তিনবার বিএসএফ এক ঘন্টা করে গেট খুলে দেয়। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে যাওয়ার পর বেলা দুই টা নাগাদ স্কুল ছুটি হয়ে যায়। বিকেল চারটায় গেট খোলার আগ পর্যন্ত প্রায় ঘন্টা দুয়েক শিশুদের এসে ক্যাম্পে বসে থাকতে হয়। শুধু তাই নয় কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরকে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া দুষ্কর হয়ে ওঠে। এক মহিলা বলেন প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা কোন মহিলাকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কিংবা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে বিএসএফের পারমিশন নিয়ে তারপরে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হয়। প্রায় ঘন্টা দুয়েক কেটে গেলে রোগীর অবস্থা সঙ্গীন হয়ে ওঠে।কাঁটাতার ঘেরা এই গ্রামে আজও নেই কোন বিদ্যুতের ব্যবস্থা, নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা ও। কুপির আলো দিয়েই কাটাতে হয় রাত। এলাকার বাসিন্দারা বলেন বিভিন্ন সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া জিরো পয়েন্ট থেকে দেড়শ গজের মধ্যে থাকলেও এখানে কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ৬০০ গজ ভেতরে। এর ফলে তাদের ভারতীয় নাগরিক হয়েও বন্দী হয়ে থাকতে হচ্ছে।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অপর্ণা সেন বলেন, কাঁটাতারের ওপারে যেসব ভারতীয় নাগরিকরা বসবাস করছেন তারা যেন বন্দী জীবন যাপন করছেন। বিএসএফের মর্জিমাফিক তাদের চলাচল করতে হচ্ছে। তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, কাঁটাতারের ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে যারা বসবাস করেন তাদের জীবন যন্ত্রণা চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছে। ওখানে কৃষি কাজের জন্য সেচ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি, পানীয় জলের কোন ব্যবস্থা নেই, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নেই, বিদ্যুৎ নেই। কোন অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্যে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। এক কথায় মানুষের মৌলিক যে চাহিদা কোন কিছুই ওই মানুষগুলির জন্য নেই।
এদিন করলা সীমান্ত থেকে অপর্ণা সেন সহ তাদের দলবল সাবেক ছিটমহল বাকালিরছড়াতে যান। সেখানে সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ শোনেন। এরপর তারা দিনহাটা শহরের কৃষি মেলা এলাকায় সিট ক্যাম্পে জান। সেখানে সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।

Leave a Reply

error: Content is protected !!