নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট, ১ ফেব্রুয়ারী’২০২০ :-

ব্যক্তিগত সম্পত্তির উপর দিয়ে জোর করে রাস্তা তৈরিতে বাধা দেওয়ায় বিজেপি’র এক মহিলা কার্যকর্তাকে শ্লীলতাহানি সহ মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের উপপ্রধান সহ তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে । মারধর করা হয়েছে মহিলার দিদিকেও । পাশাপাশি প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয়েছে ওই মহিলা স্মৃতিকনা দাসকে । দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর ব্লকের নন্দনপুর গ্রামের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে । ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় গঙ্গারামপুরে কালদিঘি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই মহিলা । হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলে বিষয়টি নিয়ে গঙ্গারামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন ওই মহিলা ।
জানাগিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনার মাধ্যমে নন্দনপুর থেকে হাপুনিয়া পর্যন্ত রাস্তা তৈরি উদ্যোগ নেয় জেলা পরিষদ । গত একবছর আগে ওই রাস্তার কাজ শুরু হলেও আইনিজটিলতায় মাঝ পথে তা আটকে গিয়েছিল । সূত্রের খবর, সমস্যা মিটিয়ে পুনরায় ওই রাস্তার কাজ শুরু হলেও বিজেপির কার্যকর্তা স্মৃতিকনা দাসের সম্পত্তির উপর দিয়ে কাজ করার চেষ্টা হচ্ছিল । যার বিরোধিতা করছিলেন ওই মহিলা । শুক্রবার দুপুরে রাস্তা তৈরি তে বাধা দেওয়া মাত্র স্থানীয় তৃণমূলের উপপ্রধান অমল সরকার সহ তাঁর দলবল তপন শীল, উজ্জ্বল সরকার, রতন শীল ও গোবিন্দ শীল সহ বেশকয়েকজন বিজেপির কার্যকর্তাকে মারধর করে । সেই সময় তাঁকে বাঁচাতে গেলে স্মৃতিকনার দিদি সোমা দাসকেও মারধর করা হয় । এমনকি দুজনকেই রশি দিয়ে বেঁধে টানতে টানতে রাস্তা থেকে খানিকটা দূরে নিয়ে গিয়ে তাঁদের বাড়ির সামনে রেখে দেওয়া হয় । মধ্যযুগীয় বর্বরতার এমন নিদর্শন প্রকাশ্যে আসতেই নিন্দার ঝড় ওঠে জেলা জুড়ে ।
বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, তৃণমূলের প্রধান উপপ্রধান সহ দুষ্কৃতীদের গুন্ডামি প্রকাশ্যে এসেছে এই ঘটনায় । অবিলম্বে পুলিশ প্রশাসনকে এই ঘটনায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ।
আক্রান্ত মহিলা স্মৃতিকনা দাস জানিয়েছেন, তিনি ১২ ফিট জায়গা দিতে চেয়েছিলেন । কিন্তু তারচেয়েও বেশী জায়গা দখল করে রাস্তা তৈরির চেষ্টা হচ্ছিল । যার প্রতিবাদ করাতেই তাঁকে মারধর সহ শ্লীলতাহানি করা হয়েছে । তাঁকে বাঁচাতে যাওয়ায় তাঁর দিদিকেও মারধর করে রশি দিয়ে বেঁধে টেনে হিঁচড়ে রাস্তা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ।
ভিডিও বার্তা দেখতে নীচের রেড লাইনে ক্লিক করুন …
পায়ে দড়ি বেঁধে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হলো শিক্ষিকাকে