নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট, ৬ জানুয়ারী’২০২০:–

হায়দ্রাবাদে মহিলা চিকিৎসক খুনের নৃসংশতাকেও ছাপিয়ে গেল দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে এক মাধ্যমিকের ছাত্রীকে ধর্ষণ করে পেট্রোল দিয়ে পুড়িরে মারার ঘটনা । সোমবার সকালে কুমারগঞ্জের সাফানগর এবং অশোকগ্রামের মধ্যবর্তী বেলখোর পাকুরতলা এলাকায় কালভার্টের তল থেকে থেকে নগ্ন অবস্থায় উদ্ধার হয় সামান্য দেহাংশ । শরীরের বেশীরভাগ অংশ পুড়ে যাওয়ায় তাঁকে শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে । যদিও কানের দুল দেখে বোঝা যায় সেটি এক কিশোরীর দেহ । অভিযোগ ফাঁকা মাটে কালভাটের উপর ধর্ষণের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কিশোরীর দেহ ক্ষতবিক্ষত করে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে । এদিন সকালে জমিতে কৃষি কাজ করতে গিয়ে এমন বীভৎস ঘটনা প্রত্যক্ষ করে শিউড়ে ওঠেন বেশ কিছু কৃষক । ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠিয়েছে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ । পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম প্রমিলা বর্মন (১৭+)। গঙ্গারামপুরের উদয় পঞ্চায়েতের পঞ্চগ্রাম এলাকার বাসিন্দা । স্থানীয় হাইস্কুল থেকে গতবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল সে । এদিন হাসপাতালে এসে ওই যুবতীর পরিচয় জানায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, রবিবার দুপুরে ফুলবাড়িতে চাদর কিনতে গিয়েছিল প্রমিলা । তারপর থেকে তাঁর মোবাইল সুইচ অফ দেখাচ্ছিল । সন্ধ্যা নামতেই পরিবারের লোকেরা আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পান নি । এদিন সকালে মাঠে কাজ করতে যাবার সময় নির্জন এলাকায় একটি কালভার্টের হিউম পাইপ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন বেশকিছু বাসিন্দা । যা দেখে সন্দেহ হতেই কাছে গিয়ে এমন বীভৎস ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন তাঁরা । সাথে সাথে খবর দেওয়া হয় কুমারগঞ্জ থানায় । কুমারগঞ্জ থানার ওসি সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় পৌঁছায় । প্রাথমিক তদন্তে কালভার্টের উপর প্রচুর রক্ত পড়ে থাকতে দেখে পুলিশের অনুমান ধারালো কোন অস্ত্র দিয়ে যুবতীর গলা কেটে প্রমাণ লোপাটের জন্য পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে । যদিও বাসিন্দাদের অভিযোগ, ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে ওই যুবতীকে । পরে প্রমাণ লোপাটের জন্য আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় । এই ঘটনা হাইদ্রাবাদের মহিলা পশু চিকিৎসক খুনের ঘটনাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে । যদিও এদিন ঘটনাস্থলে পৌঁছাননি সদ্য দায়িত্ব আসা জেলা পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত । যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা । একই সাথে রবিবার রাতে অশোকগ্রাম এলাকায় একটি জলসার আড়ালে মদ ও জুয়ার কারবার চলেছে । সেখানে দেখা গিয়েছিল ওই ছাত্রীকে । যেখান থেকে সামান্য দূরে এমন ঘটনায় কুমারগঞ্জ থানার পুলিশের ভূমিকাকেও প্রশ্ন চিহ্নে দাড় করিয়েছে ।
ছাত্রীর দাদা, বিশ্বজিৎ বর্মন বলেন, রবিবার দুপুরে বাড়ি থেকে চাদর কেনার নামে বের হয়েছিল প্রমিলা । তারপর থেকে আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি । পুলিশ দোষীদের ফাঁসির ব্যবস্থা করলে ন্যায় বিচার হবে ।
প্রতিবেশী সঞ্জয় চক্রবর্ত্তী জানিয়েছেন, এমন ঘটনা তাঁরা আগে কখনো দেখেননি । দোষীর ফাঁসির সাজা হোক ।
কুমারগঞ্জের বাসিন্দা মুসলেম মিয়াঁ, মাফুজা বিবি জানিয়েছেন, তাঁদের অনুমান ফাঁকা মাঠে ধর্ষণের পর খুন করে ওই যুবতীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে । এমন বীভৎসতা তাঁরা আগে কখনো দেখেন নি ।
কুমারগঞ্জ থানার ওসি সঞ্জয় মুখার্জ্জী জানিয়েছেন, পুলিশ মৃতদেহটি ময়না তদন্তে পাঠিয়েছে । ঘটনার পূর্নাঙ্গ তদন্ত করা হবে ।

অন্যদিকে , কুমারগঞ্জে ছাত্রী খুনের নারকীয় ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবীতে পুলিশকে ২৪ ঘন্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আন্দলনে নামার হুঁশিয়ারি দিলেন বালুরঘাটের সাংসদ । সোমবার ঘটনার খবর পেতেই এলাকায় ছুটে যান সাংসদ সুকান্ত মজুমদার । কুমারগঞ্জ থানায় গেলেও জেলা পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত কেন ঘটনাস্থলে পৌঁছাননি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংসদ । এদিন থানায় বসে একই সাথে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বল দিক তুলে ধরে এমন ঘটনার জববদিহি চান সুকান্ত বাবু । যার পরেই কিছুটা দায় এড়িয়ে পরিকাঠামগত অভাবের কথা শিকার করেন ডিএসপি (ডিএনটি) বিনোদ তামাং । এদিন সাংসদের নেতৃত্বে জনা পঞ্চাশ বিজেপির নেতাকর্মীরাও কুমারগঞ্জ থানায় হাজির ছিলেন । তাঁদের দাবী আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে পুলিশ শাস্তির ব্যবস্থা করতে না পারলে থানা ঘেরাও করে অবস্থান বিক্ষোভে বসবেন বিজেপির নেতা কর্মীরা ।
সূত্রের খবর, গঙ্গারামপুরের বাসিন্দা ওই কিশরীকে ফুসলিয়ে কুমারগঞ্জে আনা হয়েছিল । অশোকগ্রাম এলাকায় জলসা চলাকালীন রবিবার রাতে কয়েকজন যুবকের সাথে দেখা গিয়েছিল তাঁকে । এদিন সকালেই জলসা থেকে সামান্য দূরে বেলখোর পাকুরতলা এলাকায় একটি কালভার্টের নীচে হিউম পাইপে উদ্ধার হয় পুড়ে যাওয়া দেহাংশ । কালভার্টের উপর প্রচুর রক্ত দেখে বোঝা যায় ধারালো অস্ত্রদিয়ে খুন করা হয়েছে কিশোরীকে । যার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় । শরীরের বেশীরভাগ অংশ পুড়ে যাওয়ায় প্রথমে তাকে চিহ্নিত করা না গেলেও পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করেন । এমন বীভৎস ঘটনার কথা শুনেই এলাকায় ছুটে যান বালুরঘাটের সাংসদ । ঘটনার তদন্তের কিনারা পুলিশকে ২৪ ঘন্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি ।
সাংসদ সুকান্ত মজুমদার জানানিয়েছেন, এমন নৃশংস ঘটনা শুনেও এলাকায় পৌঁছাননি জেলা পুলিশ সুপার । একই সাথে নিয়মিত পেট্রোলিং হচ্ছে কিনা তা নিয়েও পুলিশকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে । পুলিশ দুর্বল পরিকাঠামোকে সামনে এনে দায় সারতে চেয়েছেন । কিন্তু ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই ঘটনার কিনারা না হলে বিজেপির তরফে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে । থানায় অবস্থান বিক্ষোভ করে প্রতিবাদ করবেন তাঁরা ।
