নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট, ২৯ অক্টোবর’১৯ :-

ছবি – এই ধরনের পোস্ট পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে
প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বালুরঘাটের বুড়ি কালী মন্দির থেকে পচা ভোগ বিতরণের অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ ভক্তদের। মন্দিরের প্রসাদ বিতরণ ঘিরে ধাক্কাধাক্কি থেকে শুরু করে মারপিট কিছু কিছুই বাদ যায়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। ভক্তদের প্রতি চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে মন্দির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনার কথা স্বীকার করে মন্দির কমিটিতে বহিরাগতদের ভিড় বাড়াতেই এমন সমস্যা বলে দাবি কালী মন্দিরের সম্পাদকের।
প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বালুরঘাটে পূজিতা হয়ে আসছেন বুড়াকালী মা। এপার বাংলা, ওপার বাংলার দিনাজপুর এলাকার অধিষ্ঠাত্রী দেবী বলে মানা হয় এই বুড়াকালী মাকে। বছরের ৩৬৫ দিনই সকাল, সন্ধ্যা এখানে নিয়ম মেনে নিষ্ঠা সহকারে পুজো হয়। তবে মূল পুজো হয় কার্তিকী অমাবস্যাতে। এই পুজোয় মাকে পাঁঠার মাংস ও বোয়াল মাছ দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। প্রতিবছর স্থানীয় ও বহিরাগত মিলে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয়। কথিত আছে একসময় রানি রাসমনি কলকাতা থেকে জলপথে বালুরঘাটে বুড়া মা কালী মন্দিরে পুজো দিতে আসতেন। পুজো দিয়ে তিনি আবার ফিরে যেতেন। বুড়ি মা কালীর পুজোর দিন মায়ের কষ্টি পাথরের মূর্তিকে সোনার গয়না দিয়ে সাজানো হয় এবং রুপোর বাসনে মায়ের পুজোর আয়োজন হয়।
জাগ্রত এই দেবীর পুজোর প্রচুর অন্নভোগ ও মিষ্টিভোগ দেন ভক্তরা। মায়ের কাছে জমা পড়ে প্রচুর সোনা রুপোর গহনাও। এবারে প্রায় ৩ হাজার অন্নভোগ বিলি করা হয়। যার কুপন করা হয়েছিল ৮৫ টাকা করে। জামা পড়ে প্রায় ১২ হাজার। সোমবার ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগ সংগ্রহ করে ভক্তরা। যেখানেই বাধে বিপত্তি। ধাক্কাধাক্কি তাকে মারপিট সবাই চলে ভোগ সংগ্রহের লাইনে।
ওই ভোগ নিয়ে বাড়ি যেতেই কিছু ভক্ত তার ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে। অভিযোগ তোলা হয় পচা ভোগ বিলি করা হয়েছে। পোস্ট লেখা হয় ‘নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি না করে সৎ ভাবে পুজোয় মন দিতে’।
বুড়ি কালি মন্দির কমিটির সম্পাদক বিকাশ ভৌমিক জানিয়েছেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাটারিং এর অসাবধানতায় এমন সমস্যা হয়েছে। তবে যারা ভোগ ফিরিয়ে দিয়েছেন তাদের তা বদলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি কমিটি গুরুত্ব সহকারে দেখবে। তবে এমন সমস্যার জন্য মূল কারণ হিসেবে মন্দির কমিটিতে বহিরাগতদের প্রাধান্যকে দায়ী করেছেন তিনি। কারণেই ভক্তদের কাছে ক্ষোভের পাত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে মন্দির কমিটি।