নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট, ১১ অক্টোবর’১৯:––

হিন্দুদের কালী পূজোকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়ে ওঠে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া হিলির হাড়িপুকুর গ্রামে । পুরনো প্রথা মেনে বছরের পর বছর হিন্দুদের কালী পূজোর আয়োজন করছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ জন । ভৌগলিক অবস্থানের কারণে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে বেড়িয়ে কাঁটা তারের ওপারে বাংলাদেশ লাগোয়া হাড়ি পুকুর গ্রাম । সেই গ্রামের মাঝে থাকা পুকুর পাড়ে একটি থানে পূজিত হন মা কালী । প্রতিবছর এই পূজো ঘিরে ভারত-বাংলাদেশের হিন্দু মুসলিম সকল সম্প্রদায়ের মানুষ জন ভিড় জমান । বাংলাদেশের নওপাড়া, বাঘমারা গ্রাম থেকেও প্রচুর মানুষ আসেন এই কালী পূজো দেখতে । প্রায় দেড়শো বছরেরও বেশী সময় ধরে মুসলিম অধ্যুষিত ওই গ্রামে দেবীর পূজো হয়ে আসছে । তবে এখানে দেবীর মুর্তি পূজো হয়না । পরম্পরাগত ভাবে পাকা থানে ঘট পূজো করা হয় এখানে ।
দূর্গা পূজো শেষ হতেই গ্রামে কালী পূজোর তোড়জোড় শুরু করে দেন এলাকার মুসলিম মানুষ জন । হিন্দুদের হাতে হাত মিলিয়ে সমস্ত জোগাড় পত্র করেন সকলেই । উৎসবের আনন্দ পৌছায় গ্রামের সকলের বাড়িতেও । পূজো মণ্ডপের পাশাপাশি রঙিন আলোতে সাজানো হয় নিজেদের ঘরবাড়িও । পূজোর সময় দেবীর থানা পরিষ্কার করে নতুন রঙ করেন বাসিন্দারা । নিয়ম করে বছরের অন্যান্য সময়েও ওই থানে পূজো করেন কাঁটা তারারের এপারে থাকা ভারতীয় মূল ভূ’খন্ডের বাসিন্দা পুরোহিত দুলাল অধিকারি । বছরের এই সময় দেবীকে মিষ্টান্ন ভোগ থেকে শুরু করে বাতাসা ও একাধিক ফলমূল নিবেদন করা হয় । পূজোর পরের দিন ভক্তদের মধ্যে বিলি হয় খিচুড়ি ভোগ । পূজো ঘিরে গ্রাম বাসিন্দাদের চরম উৎসাহ দেখে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর জওয়ানরাও । পূজোর কটা দিন গ্রামের নিরাপত্তায় বাড়তি নজর রাখেন তাঁরা ।
গ্রামের বাসিন্দা রসিদ মণ্ডল, সালেনা বিবিরা জানিয়েছেন, দুই সম্প্রদায়ের মানুষ জন মিলেই পূজোর আয়োজন করা হয় । বংশ পরম্পরায় চলা এই পূজো ঘিরে প্রচুর মানুষের ঢল নামে । বাংলাদেশ থেকেও প্রচুর মানুষ আসেন পূজো দেখতে । পূজোর কটা দিন দারুণ আনন্দে কাটে সকলের ।