নিউজ ডেস্ক ,দ্য ফোর্থ কলাম ,৮ সেপ্টেম্বর’১৯ :-

সাপে কেটেছে ঘরের কন্যাসন্তানকে এবং বহু চেষ্টা করেও বাঁচানো যায়নি । জবাব দিয়েছে হাসপাতাল । কিন্তু এরপরেও ঘরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মনসার মন্দিরের চাতালে, কলা পাতার উপর শুইয়ে রাখা হলো মৃত শিশুকে । এলো ওঝা । শুরু হলো কয়েক ঘন্টার ঝাড়ফুঁক । পরিবারের আশা, মা মনসার আশীর্বাদে ফের প্রাণ পাবে মৃত সন্তান । আলিপুরদুয়ারের দক্ষিণ মাঝের ডাবরী এলাকার এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের এই ঘটনা নিয়ে শনিবার শোরগোল পরল গোটা জেলাতেই । শেষ অবধি কুসংস্কার ও অজ্ঞানতার বিরুদ্ধে লড়াই করা এক সংস্থার সদস্যরা গিয়ে ঘটনায় হস্তক্ষেপ করলে মৃত শিশুর দাহ করা হয় এবং স্পর্শ কাতর এই ঘটনা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে আলিপুরদুয়ার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ।
ঘটনায় প্রকাশ, শুক্রবার দুপুর দেড়টা নাগাদ বাড়ির উঠোনে বিষধর সাপের কামড় খায় পেশায় রাজমিস্ত্রি মৃনাল রায়ের ১৮ মাসের কন্যা শিশু শম্পা । প্রাথমিকভাবে প সাপের কামড় খাওয়ার পর প্রথম দু’ঘণ্টা মৃত বাড়িতে ফেলে রেখে, পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় শম্পাকে ম কিন্তু বাঁচাতে পারেনি আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল । সদ্য কথা বলতে শেখা শিশু শম্পাকে মৃত ঘোষণা করে জেলা হাসপাতাল এবং এরপরই ঘটনায় আসে টুইস্ট । শোকার্ত পরিবার মৃত সন্তানকে বাঁচিয়ে তুলতে ডেকে নিয়ে আসে স্থানীয় ওঝাকে । বাড়ির মা মনসা মন্দিরের সামনে কলাপাতায় মৃত শিশুকে শুইয়ে রেখে শুরু হয় প্রবল ঝাড়ফুঁক, জানিয়েছেন আলিপুরদুয়ার বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সংস্থার সম্পাদক কৌশিক দে এবং ঘন্টা কয়েক ঝাড়ফুঁক চলার পর তারা হস্তক্ষেপ করেন এই ঘটনায় । পরিবারকে বুঝিয়ে শুনিয়ে ঝাড়ফুঁক থামানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রবল অনিচ্ছা সত্বেও মৃত শিশুর সৎকার করে হতভাগ্য পরিবার ।
এ ব্যাপারে বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সংস্থার পক্ষে কৌশিক বাবু জানান, মানুষকে আরো সচেতন হতে হবে । সাপে কাটার সঙ্গে সঙ্গে যদি আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে শিশুটিকে নিয়ে আসা যেত ,তবে হয়তো শিশুটি বেঁচে যেত । আর শিশুটি মারা যাওয়ার পর যে ঝাড়ফুঁকের ঘটনা ঘটেছে এটা যথেষ্ট নেতিবাচক । এসব যদি বন্ধ না হয়, তবে সাপে কাটা রোগী বাঁচাতে যে কর্মসূচি প্রশাসন ও বেসরকারি সংস্থা সূত্রে নেওয়া হয় তা ব্যাহত হবে, বিফলে যাবে ।