নিজস্ব প্রতিবেদক,আলিপুরদুয়ার, ৪সেপ্টেম্বর’১৯ :-

বেশ কিছু চাবাগান বন্ধ। খোলা চাবাগানেও শ্রমিকদের কাজ করলে মজুরি মেলে দৈনিক ১৭৪ টাকা। এই টাকায় দুই বেলা খাওয়ার জোগাতেই হিমিশিম খেয়ে যান চা বলয়ের বিভিন্ন চা শ্রমিক পরিবার। সেই পরিবারে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কারনে প্রতিমাসে স্যানিটারি প্যাড ব্যাবহার করা বিলাসিতা মাত্র। আর যে কারনে বিভিন্ন অপরিষ্কার পদ্ধতি অবলম্বন করায় চা বলয়ের মেয়েরা নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য দফতরও। এই অবস্থা থেকে চা বলয়ের মেয়েদের মুক্ত করতে বিনামুল্যে স্যানিটারি প্যাড বিতরন করা হল বুধবার। কালচিনি ব্লকের উত্তর লতাবাড়ি হিন্দি হাইস্কুলে এদিন স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে এই প্যাড বিতরন করা হয়। উইমেন এডুকেশনাল এওয়ারনেস এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন নামক একটি সংস্থ্যার উদ্যোগে এই স্যানিটারি প্যাড বিতরনের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। সংস্থ্যার এই উদ্যোগে খুশি আলিপুরদুয়ার জেলা স্বাস্থ্য দফতর। আলিপুরদুয়ার জেলার ডেপুটি সি এম ও এইচ ২ সুবর্ন গোস্বামি বলেন, “ অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। এটা যে মেয়েদের কতটা কাজে লাগবে তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। তবে স্বাস্থ্য দফতরের সহযোগীতা নিয়ে এগুলো বিতরন করলে আরও ভালো হত। বিনামুল্যে প্যাড বিতরনকারি সংস্থ্যার ডিরেক্টর রিংজি ওংমু ভুটিয়া বলেন, “ ডুয়ার্স অর্থনৈতিকভাবে অনেক পিছিয়ে পড়া এলাকা। এই এলাকায় মহিলারা কিনে প্যাড ব্যাবহার করতে পারেন না। সেই কারনে এই উদ্যোগ। মুলত সি কে শর্মা নামে এক ব্যাক্তির আর্থিক সাহায্যে আমরা এই মহান কাজ করতে পারছি। শুধু ডুয়ার্স নয় দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার এই তিন জেলাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একবার প্যাড শেষে হয়ে গেলে আবার প্যাড পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা করি আমরা। কোন স্কুল কতৃপক্ষ চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।” স্কুলের মেয়েদের জন্য প্যাড পেয়ে খুশি স্কুলের শিক্ষিকারা। এদিন মেয়েদের ডেকে এই বিষয়ে সচেতনতামুলক ভাষন দিয়ে স্কুল পড়ুয়াদের হাতে প্যাড তুলে দেওয়া হয়। স্কুলের শিক্ষিকা সীমা বিশ্বাস বলেন, “ এই অঞ্চলের মেয়েদের যে এই সংক্রান্ত কি ধরনের সমস্যার মধ্যে যেতে হয় তা একজন শিক্ষিকা হওয়ার সুবাদে আমরা জানি। একটি অসাধারন উদ্যোগ। আমাদের বিদ্যালয়ে সংস্থ্যার পক্ষ থেকে একটি বক্স দেওয়া হয়েছে। সেই বাক্স খালি হয়ে গেলে আমরা আবার সংস্থাকে ফোন করি। তারা সেই বাক্সে প্যাড ভরে দিয়ে যান। মেয়েরা সেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী প্যাড নিয়ে ব্যবহার করে।”