স্টেথো-স্ফিগমোম্যানোমিটার সহ ডক্টরের গাড়িতে পাচার তক্ষক : ৩ জনকে ধরল আলিপুরদুয়ার পুলিশ

নিউজ ডেস্ক , দ্য ফোর্থ কলাম, ৮ নভেম্বর’১৯ :-

দুধসাদা গাড়ি বিলাসবহুল গাড়ি এবং গাড়ির উইন্ড স্ক্রিনের পাশেই সযত্নে রাখা স্টেথোস্কোপ থেকে স্ফিগমোম্যানোমিটার, যা ব্যবহার করে থাকেন চিকিৎসকরা এবং গাড়িটির উইন্ড স্ক্রিনের সামনে আঁকা রয়েছে গাঢ় সবুজ রঙের যোগ চিহ্ন , যা কি না দেখতে পাওয়া যায় একজন চিকিৎসকের গাড়িতেই । আর সেই গাড়িতেই একটি প্রমাণ সাইজের তক্ষক ( চোরা বাজারে যার মূল্য লক্ষাধিক , সঠিক কেউ জানে না ) নিয়ে আলিপুরদুয়ারের বক্সা ফরেস্ট রোড ধরে নির্বিঘ্নে পগারপার দিচ্ছিল তিন তক্ষক পাচারকারী । গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শেষ অবধি বামাল সমেত তিন পাচারকারীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সমর্থ হলেও, তক্ষক পাচারে চিকিৎসকের গাড়ির ব্যবহার, রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশ প্রশাসনকে।
তবে কি অসাধু চিকিৎসকের দ্বারা ‘যৌনশক্তিবর্ধক ‘ কোনো টোটকা ঔষধ তৈরীর কাজে বেআইনিভাবে ব্যবহার হচ্ছে ডুয়ার্সের তক্ষক ? শুক্রবার এক তক্ষকসহ তিন ব্যক্তি কে পাকড়াও এর পর এমন প্রশ্নই দানা বাঁধছে । তক্ষকসহ তিন ব্যক্তির ব্যবহৃত চিকিৎসকের বিলাসবহুল গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে তক্ষক পাচার চক্রে যে চিকিৎসা শাস্ত্রে জ্ঞানীগুনী এক বা একাধিক ব্যক্তিরা জড়িত আছে , তার সম্ভাবনাও রয়েছে ।

প্রসঙ্গত ,আলিপুরদুয়ার পুলিশের তরফে এসডিপিও এম এইচ রেহমান জানান , সূত্র মারফত খবর পেয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে নটা থেকে আলিপুরদুয়ারের দমনপুরে বক্সা ফরেস্ট রোডে ঘাপটি মেরে শেষ অবধি এই তিন ব্যক্তিকে একটি তক্ষক সমেত গ্রেফতার করা গেছে । ধৃত তিন জনই আসামের বাসিন্দা এবং যে সুইফট ডিজায়ার গাড়িতে তারা সাবলীল ভাবে কালচিনি হয়ে আলিপুরদুয়ার শহর পার হয়ে আসামের দিকে ধাবমান ছিল , তার রেজিস্ট্রেশন নম্বরও আসামের । তবে বাজেয়াপ্ত গাড়ির মালিক কোনো চিকিৎসক কি না অথবা কাঁচের গায়ে ‘মেডিক্যাল সাইন’ বা গাড়িতে রাখা চিকিৎসার সরঞ্জাম কেবলমাত্র চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য কি না , এর সবটাই তদন্ত সাপেক্ষ , জানিয়েছেন তিনি ।

তক্ষক যে অবৈধ যৌনশক্তিবর্ধক ঔষধের চাহিদার অন্যতম বে আইনী যোগান , একথা অনস্বীকার্য । জনশ্রুতি , পূর্বের মোঙ্গলয়েড দেশ গুলোতে তক্ষক বিকোয় কোটি অর্থ মূল্যে এবং সামান্য অর্থের বিনিময়ে এই তক্ষক সংগ্রহ হয় জঙ্গলঘেরা ডুয়ার্সের আনাচ কানাচ থেকে । এতদঞ্চলের চা বলয়ের দুর্দশার সুযোগে , পেট ভাতের প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় মানুষকে কাজে লাগিয়ে চলছে এই তক্ষক পাচারের রমরমা কারবার । এবং করিডোর হিসেবে শহর আলিপুরদুয়ার যে বহুল অংশেই পাচারকারীদের সাবলীল বিচরণ ক্ষেত্র , তাও প্রমাণের অভাব রাখে না । এবং এই কারবারের কুল কিনারা করা যে যথেষ্ট কঠিন , তা বলবার অপেক্ষা নেই ।

আপাতত , তক্ষক ও গাড়ি সহ গারদের আড়ালে তিন অসম বাসিন্দা । আগামীকাল তাদের আদালতে পেশ করা হবে এবং তক্ষককে তুলে দেওয়া হবে বনবিভাগের হেফাজতে , জানিয়েছে আলিপুরদুয়ার পুলিশ প্রশাসন ।

Leave a Reply

error: Content is protected !!