কালীপূজার রাতে ধর্ষিতা নাবালিকা : অভিযোগ নিতে গড়িমসি পুলিশের : খবরে আলিপুরদুয়ার

নিউজ ডেস্ক , দ্য ফোর্থ কলাম, ২৯ অক্টোবর’১৯ :-

কালীপূজার উৎসব মরসুমে ধর্ষিত হলো এক নাবালিকা এবং বিচার চেয়ে অভিজিগ জানাতে গেলে ধর্ষিতার পরিবারকে জেলা থানা দেখিয়ে দিল স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি । এবং শুধু তাই নয় ,ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে জেলা মহিলা পুলিশ থানাতে গেলে ,সেখানেও নির্যাতিতা ধর্ষিতা মেয়েকে সশরীরে থানায় নিয়ে এসে অভিযোগ জানানোর ‘সুপরামর্শ’ও দেওয়া হয় । ঘটনায় ‘অপেক্ষা’ ছাড়া আর কি করার আছে বলে একদিকে যেমন বক্তব্য রেখেছে নির্যাতিতার পরিবারের ‘কমপ্লেন কল’ পেয়ে থানায় সাহায্য করতে আসা আলিপুরদুয়ার চাইল্ড লাইনের সদস্যরা , অন্যদিকে সাংবাদিকের মুখে ঘটনা শুনেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ জেলা পুলিশ সুপার । সব মিলিয়ে , ভাতৃ দ্বিতীয় দিন সরগরম জেলা আলিপুরদুয়ার ।

সূত্রের খবর , সোমবার সন্ধ্যায় উত্তর সোনাপুর খাল পাড়ার বাসিন্দা ,বছর তেরোর এক নাবালিকা কালীপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এক সংগীতানুষ্ঠানে গিয়ে দুই দুষ্কৃতীর খপ্পরে পড়ে । দুজন মিলে তাকে বল পূর্বক টেনে নিয়ে গিয়ে মদ খাইয়ে বেহুশ করে ধর্ষণ করে বলে পরিবারকে জানিয়েছে নাবালিকা নির্যাতিতা । পরবর্তীতে , মেয়েকে চিকিত্সা করানোর পাশাপাশি, সোনাপুর থানায় এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্যে অভিযোগ করতে গিয়ে বিফল মনোরথ হয় তার পরিবার । এ ব্যাপারে , সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘জনসেবায় আমরা’র তরফে রূপন দাস জানান, আমরা ঘটনা শুনেই থানায় এজাহার করতে নিয়ে যাই মেয়েটির পরিবারকে । কিন্তু সেখানে অভিযোগ নেওয়া হয় নি , জেলা সদর থানায় যেতে বলা হয় ।
এখানেই শেষ নয় । চাইল্ড লাইনকে জানিয়ে আলিপুরদুয়ার মহিলা থানায় অভিযোগ করতে এসে , ‘অপেক্ষায়’ থাকেন পরিবার । নির্যাতিতা কে থানায় উপস্থিত করতে বলা হয় । এই মুহূর্তে নির্যাতিতা মেয়েকে নিতে এসে এজাহার করবার বন্দোবস্ত করছে বিপর্যস্ত পরিবার ।
এ প্রসঙ্গে আলিপুরদুয়ার চাইল্ড লাইনের কো অর্ডিনেটর বিমল চন্দ্র সূত্রধর , সদস্য সুকল্পিতা রায় প্রমুখরা জানান, আমাদের কাছে এই ঘটনা জানিয়ে একটি ‘কমপ্লেন ‘এসেছিল । সে কারণেই অভিযোগ জানাতে এই মহিলা থানায় এসেছি । তবে কেন নির্যাতিতা মেয়েটিকে ছাড়া ‘কমপ্লেন ‘করা যাবে না ,সে ব্যাপারে কিছু জানি না । তবে অভিযোগ আজকেই করা হবে , স্পষ্ট জানিয়েছেন তারা ।

অপরদিকে , সাংবাদিকের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শুনে উষ্মা প্রকাশ করেছেন জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্র নাথ ত্রিপাঠী । তিনি বলেন , ‘যে কোন থানায় এই কমপ্লেন নেওয়ার কথা । খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিচ্ছি ‘ ।

Leave a Reply

error: Content is protected !!