এখানে বাবুগিরি করতে মানা : খাবার অপচয় করলেই জরিমানা ২০ টাকা : সচেতন বার্তা দিচ্ছে হোটেল বাবুমশাই

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৫নভেম্বর’১৯:-

‘কেউ যদি বেশি খাও, খাবার হিসেব নাও, কেননা অনেক লোকে ভালো করে খায় না’, জীবন মুখী গানওলার গান পঙক্তিতে জীবনের সারসত্বের কথা উঠে এলেও, সাধারণ মানুষের মননে তা এখনো সুদূরপরাহত। শুধু সাধারণ মানুষ কেন, দেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের মধ্যেও খাদ্যের অধিকারের কথা ছায়া ফেলেনি। অথচ এই পেট বাঁচাতেই প্রতিটি মানুষের সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত অবধি জারি থাকে জীবনের লড়াই। ক্ষুণ্নবৃত্তির খোঁজে হয়রান হয় মানুষ, কেউ জেতে, কেউ বা দিন কাটায় অর্ধাহারে-অনাহারে। তার জলজ্যান্ত সাক্ষী থাকে দক্ষিণের আমলাশোল থেকে উত্তরের ঢেকলাপাড়া-রহিমাবাদ। একমুঠো খাবারের মূল্য যে কতখানি, তা অনুভবে আসে না যথেচ্ছ খাদ্য উপার্জনকারী সমাজের অধিকাংশ মানুষের বোধের তালিকায় । চোখের দিশাকে প্রাধান্য দিয়ে তাদের ভাতের থালা ভরে উঠে, একরাশ উচ্ছিষ্ট খাদ্যে। এবং পেট ভাতের এই সরল সমীকরণ বুঝে নিয়েই, এক সচেতন বার্তা দিতে এগিয়ে এলেন আলিপুরদুয়ারের এক হোটেল ব্যবসায়ী। তার হোটেলের খাদ্য তালিকা বিজ্ঞাপনে স্পষ্ট বাংলায় লেখা , ‘ খাবার নষ্ট করলে অতিরিক্ত কুড়ি টাকা ধার্য( পড়ুন জরিমানা) করা হইবে’। একজন হোটেল ব্যবসায়ীর এহেন অভিনব অথচ সচেতন পদক্ষেপকে স্যালুট না জানিয়ে পারছে না শুভবুদ্ধি সম্পূর্ণ সমাজ।

আলিপুরদুয়ারের থানা মোড়ে দীঘদিন ধরেই হোটেল ব্যবসা করেন রণজিৎ দে। হোটেলের নাম দিয়েছেন ‘বাবুমশাই’, কিন্তু এখানে ‘বাবুগিরি’ করতে মানা। এই হোটেলে খেতে গিয়ে কেউ যদি অতিরিক্ত খাবার নিয়ে ফেলে দেন, তাহলে দিতে হয় অতিরিক্ত কুড়িটাকার গুনাগার। এমনটাই নিয়ম বানিয়ে, সে সচেতন বিজ্ঞপ্তি দেওয়ালে ঝুলিয়ে রেখেছেন বাবুমশাইয়ের কর্ণধার রনজিৎ। এখানে যতখুশি খাবার খেলে তার জন্যে দিতে হয়না কোনো অতিরিক্ত পয়সা, কিন্তু খাবার নষ্ট করলে তার মাশুল দিতে হয়। এককণা খাবারও যে কতটা দামী, এই হোটেলে ঢুকলেই তা উপলব্ধিতে আসতে বাধ্য। অভিনব সচেতন বার্তা, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

কি বলছেন বাবুমশাইয়ের রণজিৎ? তার স্পষ্ট বয়ান, মানুষের এটা বোঝা উচিত যে বহু লোক খাবার পায় না। বহু মানুষ অনাহারে থাকেন, বিশেষত আমাদের উত্তরের চা বাগানের দুর্দশার কথা সকলেই জানি। কিন্তু তারপরও দেখি অনেকেই বেশি বেশি করে খাবার নিয়ে সে খাবার ফেলে দেন। ভাত নষ্ট করেন। এটা বন্ধ করার জন্যেই এই নিয়ম করেছি। খাবার নষ্ট করলেই দিতে হবে অতিরিক্ত কুড়ি টাকা।

বাবুমশাইয়ের এই সচেতনতার প্রয়াস ,খাবার নষ্ট করা ‘বাবুদের’ কানে কি ঢুকেছে? কিছুটা হলেও যে এই বার্তার প্রভাব পড়েছে, তাও জানিয়েছে বাবুমশাই। খাবার নষ্ট করার প্রবণতা কমেছে। জরিমানার ভয়ে হলেও এই হোটেলে আসা মানুষ জন আর খাবার নষ্ট করেন না। খাবার যে নষ্ট করতে নেই , অপচয় করতে নেই , সেটা খানিক বোঝাতে পেরেছে বাবুমশাই । যারা আসছেন এই হোটেলে তারা বুঝতে বাধ্য হচ্ছেন । কিন্তু , গোটা দেশ কবে এটা বুঝবে, সে প্রশ্নের উত্তর অবশ্য কারোর কাছেই নেই।

Leave a Reply

error: Content is protected !!