আলিপুরদুয়ারে রহস্যমৃত্যু: কাঠ কুড়োতে গিয়ে নিখোঁজ গৃহবধূর কঙ্কাল উদ্ধার, ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য
নিউজ ডেস্ক, দ্যা ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫:-

নিখোঁজের এক মাস আঠারো দিন পর আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম ব্লকের বারোবিশার বাসিন্দা শুক্লা দাস (৩০)-এর কঙ্কালসার দেহ উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের শীল বাংলোর গভীর জঙ্গলে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। দেহের পাশে পড়ে থাকা নাইটি, হাতের শাঁখা পলা দেখে মৃতদেহটি শুক্লার বলেই শনাক্ত করেছেন তাঁর স্বামী বুদ্ধেশ্বর দাস। এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে মহিলার চপ্পল, একটি কাঠ কাটার দা ও কিছু শুকনো কাঠ। এই ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১ মার্চ শনিবার শুক্লা দেবী তাঁর ভাসুর বিকাশ দাস ও পাড়ার আরও দুই মহিলার সঙ্গে শীল বাংলোর জঙ্গলে কাঠ কুড়োতে গিয়েছিলেন। সঙ্গের দুই মহিলা ফিরে এলেও শুক্লা দেবী রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। পরে তাঁর ভাসুর বিকাশও বাড়ি ফেরেন। পুলিশ সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সময় বিকাশ কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
ঘটনার মোড় ঘোরে নিখোঁজের দুদিন পর, অর্থাৎ ৩ মার্চ শুক্লা দেবীর বাড়ি থেকে মাত্র দুশো মিটার দূরে একটি গাছে তাঁর ভাসুর বিকাশ দাসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পর। ময়নাতদন্তে জানা যায়, বিকাশ আত্মহত্যা করেছেন। তবে কী কারণে তিনি আত্মঘাতীর পথ বেছে নিয়েছিলেন, তা এখনও অজানা। পুলিশের মনে প্রশ্ন জেগেছে, জঙ্গলের ভেতরে কি শুক্লা দেবীর সঙ্গে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল? নাকি সেই ঘটনার জেরেই লোকলজ্জার ভয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন বিকাশ?
এদিকে, শুক্লা দেবীর খোঁজে নিখোঁজের পর পর তিন দিন গোয়েন্দা কুকুর ‘টাইগার’কে নিয়ে জঙ্গলে চিরুনি তল্লাশি চালানো হলেও তাঁর মৃতদেহের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এত দিন পর জঙ্গলের এত গভীরে তাঁর কঙ্কাল উদ্ধার হওয়ায় পুলিশের তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
জেলার পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে কিছু বিষয় তাঁদের নজরে এসেছে। মৃতদেহের পরনের নাইটি এবং অন্তর্বাস অক্ষত রয়েছে। এমনকি হাতের শাঁখা পলাও ভাঙেনি। এই কারণে বন্যপ্রাণীর আক্রমণে মৃত্যুর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে মৃত্যুর আসল কারণ জানতে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ।
নিহত গৃহবধূর স্বামী বুদ্ধেশ্বর দাস উদ্ধার হওয়া দেহটি তাঁর স্ত্রীর বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি এই ঘটনায় হতবাক। তিনি বলেন, “কীভাবে কী ঘটলো কিছুই বুঝতে পারছি না।”
সব মিলিয়ে শুক্লা দাসের রহস্যমৃত্যু এবং তাঁর ভাসুরের আত্মহত্যার ঘটনা আলিপুরদুয়ারে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। পুলিশ এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে রয়েছে, যা এই রহস্যের জট খুলতে সাহায্য করতে পারে।