ডিএ মামলা: সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি নিয়ে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে ভাগ্য নির্ধারণ রাজ্য সরকারের | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ :

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। প্রথম দফার ভোটের কাউন্টডাউন যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মামলা নিয়ে তৈরি হয়েছে এক টানটান উত্তজনা। বকেয়া ডিএ মেটানোর সময়সীমা বাড়ানোর জন্য রাজ্য সরকার যে আবেদন জানিয়েছিল, আগামীকাল বুধবার ১৫ এপ্রিল ভারতের সুপ্রিম কোর্টে তার চূড়ান্ত শুনানি হতে চলেছে। কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মচারীর ভবিষ্যৎ এখন শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর দাঁড়িয়ে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ একটি ঐতিহাসিক রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছিল, ডিএ কোনও দয়া নয়, বরং কর্মচারীদের আইনগত অধিকার। আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মেটাতে হবে এবং বাকি ৭৫ শতাংশ মেটানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করতে হবে। সেই অনুযায়ী প্রথম কিস্তি ৩১ মার্চের মধ্যে দেওয়ার কথা থাকলেও রাজ্য সরকার তা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে। উল্টে সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়ার আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে নবান্ন।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান কারণ দর্শানো হয়েছে— প্রথমত, কোষাগারের বেহাল দশা ও কেন্দ্রীয় ঋণের অনুমোদন না পাওয়া; দ্বিতীয়ত, কয়েক লক্ষ কর্মীর সার্ভিস বুক স্ক্রিনিং ও পোর্টাল তৈরির প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং তৃতীয়ত, আসন্ন নির্বাচনের কাজে প্রশাসনিক ব্যস্ততা।
অন্যদিকে, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ সহ বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, সরকার আসলে নির্বাচনের আগে সময় নষ্ট করতে চাইছে। তাদের অভিযোগ, ৩১ মার্চের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও টাকা না মেটানো আদতে আদালত অবমাননার সামিল। বুধবার দুপুরে দুই বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে। এখন দেখার, আদালত কি রাজ্যের যুক্তি মেনে সময় দেবে, নাকি ভোটের মুখেই কড়া কোনও নির্দেশে রাজ্য সরকারকে বড়সড় অস্বস্তিতে ফেলবে।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!