নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১২ মার্চ ২০২৬ :

কলকাতা: কোনো লকডাউন নেই, নেই করোনা মহামারীর প্রকোপ। অথচ সব কিছু সচল থেকেও এক অদ্ভুত ‘অচল’ অবস্থার সম্মুখীন পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের অর্থনীতি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার জেরে ক্রুড অয়েল ও গ্যাসের জোগান কমায় গভীর সংকটে পড়েছে শিল্প ও পরিবহণ ক্ষেত্র। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের রুটি-রুজিতে।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা গিগ ওয়ার্কার্সদের। সুইগি, জোমাটো, ব্লিঙ্কিট বা র্যাপিডোর মতো অ্যাপ-নির্ভর কর্মীদের আয় ব্যাপক হারে কমেছে। মহানগরের বেশ কিছু নামী রেস্তরাঁ ইতিমধ্যেই তালা বন্ধ হয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার নামী ক্লাবগুলো খাবারের মেনু কাটছাঁট করছে। জ্বালানি ও গ্যাসের আকালে ধুঁকছে হোটেল শিল্পও। এইচআরএআই-এর সভাপতি সুদেশ পোদ্দার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এমন চলতে থাকলে রাজ্যের কয়েক লক্ষ মানুষ কাজ হারাবেন।
সংকট কেবল পরিষেবা ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। হাওড়ার জালান ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে আসানসোল-দুর্গাপুর ও পুরুলিয়ার ইস্পাত ও সিমেন্ট শিল্পেও ‘ধীরে চলো’ নীতি নেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংগঠন ফসমির মতে, এই অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদী হলে তা কাটিয়ে ওঠা কষ্টসাধ্য হবে। এমনকি মিষ্টি শিল্পও গ্যাসের অভাবে বিপন্ন। পরিবহণ ক্ষেত্রে অটো ও অ্যাপ-ক্যাব কমতে শুরু করায় বেকারত্বের ছায়া ঘনীভূত হচ্ছে। ভারতের জিডিপির বড় অংশ জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হয়, ফলে এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বাণিজ্য ঘাটতি আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক নিঃশব্দ অর্থনৈতিক মন্দা যেন দরজায় কড়া নাড়ছে।