আদি গ্রিস থেকে আধুনিক ব্যালট: বিশ্বের বুকে ভোট দেওয়ার অধিকার ও গণতন্ত্রের বিবর্তনের ইতিহাস | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৬ মার্চ ২০২৬ :

ভোটের ইতিহাস: ক্ষমতার পালাবদলে জনতার জয়গান
গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম উৎসব হলো ভোট। কিন্তু আজকের এই ব্যালট পেপার বা ইভিএম-এর পেছনে রয়েছে হাজার বছরের লড়াই আর বিবর্তনের কাহিনী। ভোটের ইতিহাস মানেই হলো সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমতা ফিরে আসার ইতিহাস।
প্রাচীন সূচনা: গ্রিস ও রোম
ভোট দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ইতিহাস শুরু হয় প্রাচীন গ্রিসের অ্যাথেন্সে, প্রায় ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। সেখানে ‘প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র’ প্রচলিত ছিল। তবে তখন আজকের মতো সবাই ভোট দিতে পারত না; কেবল প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নাগরিকরাই এই অধিকার পেত। গ্রিকরা অনেক সময় কালো ও সাদা পাথর ব্যবহার করে তাদের মতামত জানাত। অন্যদিকে, প্রাচীন রোমেও সংসদ বা ‘সিনেট’ নির্বাচনের জন্য ভোটের প্রচলন ছিল।
মধ্যযুগ ও ইংল্যান্ডের ম্যাগনাকার্টা
মধ্যযুগে রাজার একচ্ছত্র শাসনের ফলে ভোটাধিকার স্তিমিত হয়ে পড়ে। তবে ১২১৫ সালে ইংল্যান্ডে ‘ম্যাগনাকার্টা’ স্বাক্ষরের মাধ্যমে রাজার ক্ষমতা সীমিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এটি ছিল আধুনিক সংসদীয় গণতন্ত্রের এক আদি বীজ। ১৭শ ও ১৮শ শতাব্দীতে ইউরোপে যখন রেনেসাঁ ও আলোকায়ন শুরু হয়, তখন ‘জনগণের সম্মতি ছাড়া কোনো শাসন নয়’—এই ধারণা জনপ্রিয় হতে থাকে।
আধুনিক যুগ ও সর্বজনীন ভোটাধিকার
আধুনিক ভোটের প্রকৃত রূপ তৈরি হয় ১৮শ শতাব্দীর শেষভাগে আমেরিকা ও ফ্রান্সের বিপ্লবের পর। তবে তখনো নারী বা কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটের অধিকার ছিল না। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৮৯৩ সালে নিউজিল্যান্ড বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নারীদের ভোটাধিকার প্রদান করে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্ণ, ধর্ম ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের জন্য ‘এক ব্যক্তি এক ভোট’ নীতি চালু হয়।
ভোটের আধুনিক মাধ্যম
শুরুতে মুখে বলে বা হাত তুলে ভোট দেওয়া হতো। পরে আসে কাগজের ব্যালট। ১৮৫৬ সালে অস্ট্রেলিয়া প্রথম গোপন ব্যালট ব্যবস্থা চালু করে, যা বিশ্বজুড়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। বর্তমানে প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা ইভিএম বা অনলাইন ভোটের যুগে প্রবেশ করেছি।
ভোটের এই দীর্ঘ ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, একটি ভোট কেবল একটি চিহ্ন নয়, বরং এটি নাগরিকের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!