নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২০ মে ২০২৬ :

বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে এবার উন্নয়নের জোয়ার উত্তরবঙ্গে, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর এই প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে এলেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সকাল থেকেই তাঁর এই আগমনকে ঘিরে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক উৎসাহ ও কৌতূহল লক্ষ্য করা যায়। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ কলকাতা থেকে বিমানে রওনা দিয়ে বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ তিনি বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে নামার পরই উত্তরবঙ্গের পুণ্যভূমিকে প্রণাম জানিয়ে সফর শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উত্তরবঙ্গকে ধন্যবাদ। বাংলা এবং উত্তরবঙ্গকে বাঁচানোর লড়াইয়ে এখানকার মানুষের ভূমিকা সবচেয়ে বড়।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০০৯ সাল থেকেই দার্জিলিং পাহাড় ও সামগ্রিক উত্তরবঙ্গ বিজেপির উপর আস্থা রেখেছে। এবার সেই বিশ্বাসের পূর্ণ মর্যাদা রক্ষা করবে নতুন বিজেপি সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং দল উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলি একে একে বাস্তবায়িত করা হবে বলে তিনি স্পষ্ট জানান। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “উত্তরবঙ্গের মানুষের ঋণ শোধ করবে বিজেপি সরকার। দীর্ঘদিনের অভিমান, বঞ্চনা ও ন্যায্য অধিকারের দাবি পূরণ করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বিজেপি কথা কম বলবে, কাজ বেশি করবে।”
প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে এদিন একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এখন থেকে প্রতি মাসে মুখ্যমন্ত্রী নিজে এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা উত্তরবঙ্গে এসে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন উত্তরবঙ্গের মিনি সচিবালয় ‘উত্তর কন্যা’-য় বসে সরাসরি প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করবেন।
বাগডোগরা বিমানবন্দরের সাংবাদিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী সোজা চলে যান শিলিগুড়ির বিজেপি দলীয় কার্যালয়ে। সেখানে দার্জিলিং জেলা ও শিলিগুড়ি বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তসহ অন্যান্য সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেন তিনি।
এরপর মুখ্যমন্ত্রী ‘উত্তর কন্যা’-য় গিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নেন। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এই বৈঠকে রাস্তা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, শিল্প এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, প্রশাসনিক কাজে কোনও ‘আমরা-ওরা’ রাজনীতি করা হবে না। আগামী দিনের বৈঠকগুলিতে সমস্ত বিরোধী বিধায়কদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি রাজ্যে দ্রুত বাস্তবায়নের সুবিধার্থে বিজেপির সাংসদদেরও এই প্রক্রিয়ায় শামিল করা হবে। আগামী মাসে তিনি আবারও দু-তিন দিনের জন্য উত্তরবঙ্গ সফরে আসবেন বলে জানান। বৈঠক শেষে বিকেলে তিনি সড়কপথে বাগডোগরা হয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরের পর উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে এক নতুন আশার আলো দেখছেন সাধারণ মানুষ।