নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৫ মার্চ ২০২৬ :

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-ইজরায়েল সংঘাত যখন ষষ্ঠ দিনে পা দিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) ‘LGM-30G Minuteman III’-এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করল। ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে চালানো এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে। প্রশ্ন উঠছে, ইরানে হামলার প্রস্তুতির লক্ষ্যেই কি এই শক্তি প্রদর্শন?
ভয়ংকর ‘ডুমসডে মিসাইল’: এই ক্ষেপণাস্ত্রকে বিশেষজ্ঞরা ‘ডুমসডে মিসাইল’ বা মহাপ্রলয়ের অস্ত্র বলে অভিহিত করেন। এটি হিরোশিমায় ব্যবহৃত বোমার চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। ঘণ্টায় ১৫,০০০ মাইল গতিবেগে চলা এই ক্ষেপণাস্ত্র মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে আঘাত হানতে পারে। যদিও মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর দাবি, এটি একটি রুটিন মাফিক পরীক্ষা এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সঙ্গে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
রণক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতি: যুদ্ধের ষষ্ঠ দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ইরান থেকে ইজরায়েলের দিকে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসায় লক্ষ লক্ষ মানুষ বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। ঠিক এই আবহে মার্কিন সেনেটে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান বিরোধী বিমান হামলা বন্ধ করার প্রস্তাবটি ৫৩-৪৭ ব্যবধানে খারিজ হয়ে গেছে। এর ফলে প্রেসিডেন্টের সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হলো।
প্রতিরোধ না কি উস্কানি: ৫৭৬তম ফ্লাইট টেস্ট স্কোয়াড্রনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ক্যারি রে জানিয়েছেন, দেশের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখতেই এই পরীক্ষা। তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে আমেরিকার এমন পদক্ষেপ উস্কানি হিসেবে কাজ করতে পারে। কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত অচল হয়ে পড়ায় এবং সমুদ্রে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।