UNHRC অধিবেশনে ভারতের জয়গান: বিশ্বমঞ্চে সাংস্কৃতিক অধিকার ও ঐতিহ্য রক্ষার নতুন দিশা | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৫ মার্চ ২০২৬ :

সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষায় বিশ্বমঞ্চে ভারতের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ: UNHRC অধিবেশনে প্রশংসা
নিজস্ব প্রতিনিধি, জেনেভা: রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের (UNHRC) ৬১তম অধিবেশনে ভারতের সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষা ও প্রসারের পরিবর্তিত নীতি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। ইকো ফন সোসাইটির (ECO FAWN Society) সিইও সাই সম্পথ মেট্টু একটি ভিডিও বিবৃতির মাধ্যমে তুলে ধরেন যে, ভারত এখন সংস্কৃতিকে কেবল ঐতিহ্য নয়, বরং শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করছে।
অধিকার-ভিত্তিক নীতি ও বিশ্বায়ন: আলোচনাচক্রে মেট্টু জোর দিয়ে বলেন, ভারত বর্তমানে একটি অধিকার-ভিত্তিক ও সহযোগিতামূলক নীতি নিয়ে চলছে। এর মূল লক্ষ্য হলো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা, ঐতিহ্য রক্ষা এবং শিল্পীদের সামাজিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তোলা। ভারত বিশ্বজুড়ে সাংস্কৃতিক আলোচনায় এক নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করছে।
UNESCO ও ২০৩০ পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা: বিবৃতিতে ‘ইউনেস্কো মনডিয়াকল্ট ২০২৫’-এ ভারতের সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) প্রভাব এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংস্কৃতির ভূমিকার মতো আধুনিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ভারত সফলভাবে তুলে ধরেছে। ভারত ২০৩০-পরবর্তী বৈশ্বিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে সংস্কৃতির জন্য একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক নীতিতে সাংস্কৃতিক স্থায়িত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা সহজ হয়।
শিল্পী ও মেধাস্বত্ব সুরক্ষা: সৃজনশীল ক্ষেত্রকে টিকিয়ে রাখতে ভারত শিল্পী ও নির্মাতাদের মেধাস্বত্ব (Intellectual Property Rights) রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। শিল্পীরা যাতে তাঁদের কাজের যোগ্য স্বীকৃতি ও ন্যায্য পারিশ্রমিক পান, তা নিশ্চিত করা ভারতের সাংস্কৃতিক নীতির অন্যতম অগ্রাধিকার। এছাড়া ইউনেস্কোর কাঠামোর অধীনে ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভারতের প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান: পরিশেষে, মেট্টু সরকার, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির আহ্বান জানান। ডিজিটাল মাধ্যমে অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ঐতিহ্য পরিচালনায় স্থানীয় মানুষের ভূমিকা শক্তিশালী করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এই উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে যে, ভারত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি সংস্কৃতিকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!