নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :

খামখেয়ালি আবহাওয়া, একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং রোগপোকার দাপট—সব প্রতিকূলতাকে জয় করে উত্তরবঙ্গে চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। টি বোর্ডের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে রাজ্যে কাঁচা চা পাতার উৎপাদন প্রায় ২ কোটি ৯০ লক্ষ কেজি বৃদ্ধি পেয়েছে। শতাংশের হিসেবে এই বৃদ্ধি প্রায় ৮ শতাংশ। ২০২৪ সালে যেখানে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩৮.২২ কোটি কেজি, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১.১১৮ কোটি কেজিতে। যদিও এই উৎপাদন ২০২৩ সালের ৪৩.৩৫৪ কোটি কেজির তুলনায় কিছুটা কম, তবুও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে এই ঘুরে দাঁড়ানোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে।
তবে উৎপাদন বাড়লেও উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র উদ্বেগ। পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের বাগান মালিক ও শিল্প মহলের মতে, উৎপাদন বৃদ্ধি কেবল একটি সংখ্যার লড়াই মাত্র। বাস্তবে উৎপাদিত চা নিলামে ন্যায্য দাম পাচ্ছে না, যার ফলে বাগানের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতে, পাহাড়ের চা গাছগুলি অত্যন্ত পুরনো হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ক্ষমতা হারাচ্ছে। এই শিল্পকে বাঁচাতে কেন্দ্রীয় বাজেটে ‘স্পেশাল প্যাকেজ’-এর দাবি উঠলেও শেষ পর্যন্ত কোনো ঘোষণা না আসায় বাগান মালিকদের মধ্যে চরম হতাশা ছড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় সহায়তা ছাড়া উত্তরবঙ্গের এই প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পের পুনরুজ্জীবন প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে পাতার ফলন বাড়লেও, উত্তরবঙ্গের চা শিল্প আদৌ কতটা সুদিন দেখবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।