“হনুমানজিই প্রথম মহাকাশচারী!” পড়ুয়াদের বোঝালেন সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর, ইসরো-তে শোরগোল
নিউজডেস্ক, দ্যা ফোর্থ কলাম, ২৫ আগষ্ট ২০২৫ :

ভারত যখন চন্দ্রযান ৩-এর সফল অবতরণ নিয়ে গর্বিত, ঠিক তখনই এক নতুন তথ্য সামনে এনে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মহাকাশ গবেষণায় ভারতের পথপ্রদর্শক হলেন স্বয়ং শ্রী হনুমান। অনুরাগ ঠাকুরের এই মন্তব্যে শুধু রাজনৈতিক মহলে নয়, দেশের বিজ্ঞানী মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
ঘটনার সূত্রপাত একটি স্কুল অনুষ্ঠানে। পড়ুয়াদের মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে উৎসাহ দিতে গিয়ে সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর বলেন, “তোমরা যে মহাকাশচারী হওয়ার স্বপ্ন দেখছ, তার প্রথম অনুপ্রেরণা আমাদের পুরাণেই রয়েছে। জানো, প্রথম মহাকাশচারী কে ছিলেন? তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং হনুমানজি! তিনি সূর্যকে ফল ভেবে এক লাফে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন। এই ঘটনাটাই প্রমাণ করে, মহাকাশ গবেষণার বীজ আমাদের সংস্কৃতিতে হাজার হাজার বছর আগে থেকেই বপন করা হয়েছিল।”
সাংসদের এই মন্তব্যের পর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ইসরোর এক বিজ্ঞানী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “আমরা এতদিন ভেবেছিলাম ইউরি গ্যাগারিন প্রথম মহাকাশচারী, কিন্তু সাংসদ অনুরাগ ঠাকুরের এই নতুন তথ্য আমাদের গবেষণা নতুন দিশা দেখাচ্ছে। এখন হয়তো আমাদের পাঠ্যবই এবং গবেষণাপত্রে এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন পড়বে। হনুমানজির মহাকাশ ভ্রমণের গতি, উচ্চতা এবং জ্বালানির উৎস নিয়ে আমরা নতুন করে গবেষণা শুরু করতে পারি।”
এই মন্তব্যের পর নেটিজেনরা সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মিম এবং পোস্ট করা শুরু করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, “হনুমানজির মহাকাশ ভ্রমণের জন্য কি নাসা-র অনুমতি নেওয়া হয়েছিল?” আবার কেউ বলছেন, “ভারত হয়তো ২০২৪-এর মধ্যে হনুমানজিকে চন্দ্রযান-৪-এর পাইলট হিসেবে ঘোষণা করতে পারে।”
বিরোধী দলগুলি এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে। এক বিরোধী নেতার কথায়, “শিক্ষার্থীদের ভুল তথ্য দিয়ে বিজেপি সরকার দেশের বিজ্ঞানকে পেছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। চন্দ্রযান ৩-এর সাফল্য ইসরো-র বিজ্ঞানীদের কঠোর পরিশ্রমের ফল, রামায়ণের গল্পের নয়।”
যদিও বিজেপি এই মন্তব্যের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। দলের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বিজ্ঞানকে এক সূত্রে গাঁথার চেষ্টা করেছেন। আমাদের পৌরাণিক কাহিনিতে এমন অনেক কিছুই রয়েছে, যা আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে মিলে যায়। এটি কোনো ভুল তথ্য নয়, বরং একটি নতুন দৃষ্টিকোণ।”
এদিকে, এই ঘটনার পর অনেক ছাত্রছাত্রী এখন মহাকাশ গবেষণার বদলে পৌরাণিক কাহিনী নিয়ে পড়াশোনা শুরু করার আগ্রহ দেখাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, “যদি মহাকাশ গবেষণার সব উত্তর রামায়ণেই থাকে, তাহলে আর এত পরিশ্রম করে ইসরোর গবেষণাগারে কী লাভ!”
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য একদিকে যেমন দেশের বিজ্ঞানীদের মনোবলকে আঘাত করছে, তেমনই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করছে। তবে এটুকু বলা যায়, হনুমানজির এই ‘মহাকাশচারী’ তকমা নিয়ে বিতর্ক আরও অনেক দূর গড়াবে। হয়তো আগামী দিনে, ‘স্পেস স্যুট’-এর বদলে হনুমানজির গদা হাতে ছবিই দেখা যাবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে।